


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, দীঘা: ভোট না মেটা পর্যন্ত বাইরের কাউকে হোটেল কিংবা লজে থাকতে দেওয়া যাবে না! সে পাহাড়-ডুয়ার্স হোক বা দীঘা মন্দারমণির মতো বিখ্যাত পর্যটনস্থল—সর্বত্র। নির্বাচন কমিশনের এহেন নির্দেশিকায় শুধু পর্যটক নয়, মাথায় বাজ পড়েছে হোটেল ব্যবসায়ীদেরও। বিশেষ করে পাহাড়-ডুয়ার্সের হোটেল ব্যবসায়ীরা এখন চরম বিভ্রান্তিতে। কারণ, প্রশাসনের তরফে কারও কাছে নির্দেশ এসেছে বহিরাগত কাউকেই হোটেলে থাকতে দেওয়া যাবে না। কেউ আবার নির্দেশ পেয়েছেন, হোটেলে কোনো গ্রুপ রাখা যাবে না। তবে পরিবার নিয়ে কেউ এলে, নথি খতিয়ে দেখে থাকতে দেওয়া যেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো হোটেল ও রিসর্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের তো এও দাবি, তাঁরা অফিশিয়ালি এব্যাপারে নির্দেশিকাই হাতে পাননি। উদ্বিগ্ন পর্যটকদের অনেকেই অহেতুক ঝামেলায় জড়ানোর আশঙ্কায় ট্যুর বাতিল করেছেন। বুধবার হোটেল ছেড়ে তাঁরা বাড়ির পথ ধরেছেন। ফেরার ট্রেনের টিকিট না পেয়ে কিছু পর্যটক অবশ্য রয়ে গিয়েছেন দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন হোটেলে। শেষপর্যন্ত তাঁদের হোটেল থেকে কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে কি না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না ওইসব পর্যটকরা।
একই অবস্থা দীঘা-মন্দারমণিতেও। সেখানে মাইকিং করে প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাইরের কেউ হোটেলে থাকতে পারবেন না। তবে জেলার বাসিন্দারা যদি পরিবার নিয়ে দীঘায় বেড়াতে আসেন, তাঁরা হোটেলে থাকতে পারবেন। তবে উপযুক্ত নথি পেশ করতে হবে। এই ঘোষণার পর এদিন কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে যায় সৈকতনগরী। এনিয়ে ক্ষুব্ধ হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, আগে কোনো ভোটে পর্যটকদের এভাবে সমস্যায় পড়তে হয়নি। কমিশনের নির্দেশিকা নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু একটাই প্রশ্ন, আগে থেকে এটা জানানো হল না কেন? তাহলে তো তাঁরা পর্যটকদের গাইড করতে পারতেন। এভাবে হয়রান হতে হত না ট্যুরিস্টদের!
লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, ‘এর আগে উত্তরবঙ্গে ভোট চললেও কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গ থেকে পর্যটকরা ডুয়ার্সে এসে দারুণভাবে ঘুরেছেন, কোনো সমস্যা হয়নি। এবার এমনটা হচ্ছে কেন? পর্যটকদের হোটেলে রাখা বা না-রাখা নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পাইনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছি। পর্যটকরা জানতে চাইছেন। তাঁদের বলছি, আমাদের কাছে কোনো নির্দেশিকা নেই।’ কমিশনের নির্দেশিকার জেরে পর্যটকদের যেভাবে হোটেল ছেড়ে ফিরে যেতে হচ্ছে, তাতে ক্ষুব্ধ দীঘা-শংকরপুর হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে যাঁরা বেড়াতে এসেছিলেন, তাঁরা হোটেল ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন। এটা ঠিক যে, এর আগে কোনো ভোটে পর্যটকদের বেড়াতে আসা নিয়ে এত ঝামেলায় পড়তে হয়নি।’ দার্জিলিংয়ে হোটেল রয়েছে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা জীবন নন্দীর। বললেন, ‘কম হলেও পাহাড়ে পর্যটক রয়েছেন। আমার হোটেলেও গেস্ট আছেন। তাঁরা থাকতে পারবেন কি না, জানতে চাইছেন। কিন্তু প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না।’ হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় হোটেলগুলিকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইরের কাউকেই রাখা যাবে না।’ ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহার দাবি, ‘আমাদের বলা হয়েছে, হোটেলে কোনো গ্রুপ রাখা যাবে না।’