Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ নয়, চাপে সিদ্ধান্ত কমিশনের

চাপের মুখে পিছু হটল কমিশন। এবার হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশেষে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন। জেলাগুলিকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ নয়, চাপে সিদ্ধান্ত কমিশনের
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাপের মুখে পিছু হটল কমিশন। এবার হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশেষে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন। জেলাগুলিকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। 

Advertisement

গোটা এসআইআর পর্বে বিএলও, এইআরও, ইআরও এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল কমিশনের বিরুদ্ধে। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সেই নির্দেশ মোতাবেকই কাজ করতে বাধ্য থাকতেন এসআইআরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। এ নিয়ে একাধিকবার কমিশনে ডেপুটেশন জমা দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁর দাবি ছিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যদিও কমিশনের ব্যাখ্যা ছিল, হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়ায় আদৌ কোনো ভুল নেই। কাজের সুবিধার্থেই এই সমাজমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। কমিশনের আরও বক্তব্য ছিল, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশগুলি লিখিতভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়েই জানানো হয়। কিন্তু প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। কিন্তু এসআইআরের শেষ লগ্নে এসে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানো নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে হল কমিশনকে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। আরও জানা যাচ্ছে, এখন থেকে শুধুমাত্র লিখিত নির্দেশিকা দ্রুত জেলাগুলির কাছে পাঠাতে শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা হবে। অন্য কোনো নির্দেশ পাঠাতে ওভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না বলেই জেলাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? কমিশন কর্তারা অবশ্য অন্য যুক্তি দেখাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, চাপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত, এই সরলীকরণ ঠিক নয়। কমিশনের ব্যাখ্যা, আসলে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে অন্য একটি মামলায় ইতিমধ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। ২০২১ সালে ‘হোয়াটসঅ্যাপ নয়া সুরক্ষাবিধি’ কার্যকর হয়েছিল। তা নিয়ে তখনই আপত্তি উঠেছিল। অভিযোগ, নতুন বিধিতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। সেই বিষয়েও একটি মামলা হয়। তার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি হোয়াটসঅ্যাপ অর্থাৎ মেটাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা না করতে পারলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই মনোভাবের পরই এহেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিশন কর্তাদের একাংশের। যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেভাবে একের পর এক ইস্যুতে শীর্ষ আদালতে কমিশনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাতে নতুন বিড়ম্বনা ঠেকাতেই এখন হোয়াটসঅ্যাপ এড়াতে চাইছে কমিশন।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এদিনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, রাজ্য যে ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের নাম দিয়েছে, তাঁরা মঙ্গলবার কাজে যোগ দেবেন। দু’দিন প্রশিক্ষণের পর তাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হবে। প্রশিক্ষণের ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই আধিকারিকদের লগ ইন-আইডি দেওয়া হবে।
সুপ্রিম নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সিইও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সিইও স্পষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তালিকায় কোনো ভোটারের নাম না থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৫ দিনের মধ্যে জেলাশাসক অর্থাৎ ডিইওর কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। ডিইও আবেদনের নিষ্পত্তি না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ভোটার সেক্ষেত্রে পরের ৫ দিনের মধ্যে সিইওর কাছে আবেদন করতে পারবেন। কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন পর্যন্ত ১ কোটি ৩৯ লক্ষ শুনানি শেষ। ১ কোটি ৬ ‍লক্ষ নথি আপলোড শেষ হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ