নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুনানিতে গিয়ে প্রয়োজন মতো সমস্ত নথি দিলেও, ভোটার তালিকায় নাম থাকার কোনও গ্যারেন্টি নেই। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় যে অভিযোগ করেছেন, তাতে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামনে এসেছে। এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়ে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নথি জমা দিচ্ছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে বাংলার মা- বোনেরা। কিন্তু তাতেও কী আদৌ দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছে? এসআইআর পর্বে নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি সম্পর্কে দেওয়া পঞ্চম চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের আওতায় শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও, সেসব নথি জমা দেওয়ার প্রমাণ স্বরূপ কোনও রসিদ বা স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হচ্ছে না কমিশনের তরফে। পরে যাচাইয়ের সময় সেই নথিগুলি ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ জানিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ মমতার।
এর আগে যে চারটি চিঠি জ্ঞানেশ কুমারকে লিখেছেন মমতা, তাতে এসআইআর নিয়ে কমিশনের খামখেয়ালিপনার জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। এদিনের চিঠিতেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। নথি জমার প্রমাণ না দেওয়াটা সংবিধান পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘এই পদ্ধতি মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য। এতে ভোটাররা প্রশাসনিক ত্রুটির শিকার হচ্ছেন।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ডিজিটাইজ এবং অনুবাদের ফলে ভোটারদের নাম, বয়স, অভিভাবকের নাম সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল হয়েগিয়েছে। যার ফল স্বরুপ বহু বৈধ ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অজুহাতে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিগত ২৩ বছর ধরে চলা ভোটার তালিকার সংশোধনীর কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘গত ২৩ বছরে বহু ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে এবং শুনানির মাধ্যমে নিজেদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন। যা ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য করাটা, যুক্তিহীন ও স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, শুধুমাত্র খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এবং পূর্ববর্তী তালিকার সঙ্গে মিল না পাওয়া ক্ষেত্রেই শুনানি হওয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যেসব ভোটারের তথ্য মিলেছে, তাঁদের নোটিস পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। এসব খামতি দুর করতে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। যা না হলে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে না বলেও সুর চড়িয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।