Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬

ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশন, নথি আবশ্যিক নয়, পিছু হটল কমিশন

শুনানি হয়নি। কবে হবে, ঠিকও হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হতেই বিরোধীদের প্রবল চাপে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন।

ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশন, নথি আবশ্যিক নয়, পিছু হটল কমিশন
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুনানি হয়নি। কবে হবে, ঠিকও হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হতেই বিরোধীদের প্রবল চাপে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। বিহার ইস্যুতে জানিয়ে দিল, স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের ইনিউমারেশন ফর্ম ফিল আপের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নথি দেওয়াটা আবশ্যিক নয়। আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত এই ঩রিভিশন চলবে। তার মধ্যে দিলেই হল। যাঁরা নথি জমা দিতে পারবেন না, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) তাঁদের বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেবেন। জানতে চাইবেন পাড়া প্রতিবেশীর থেকে। যাচাই করবেন অন্যান্য সরকারি নথি। তারপর যদি আধিকারিকরা মনে করেন, তাঁরাই ‘ভেরিফিকেশনে’র ভিত্তিতে সেই ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। 

Advertisement

রবিবার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ জুলাই পর্যন্ত যাঁরাই ইনিউমারেশন ফর্ম (সহজ কথায় ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ) ফিল আপ করবেন, তাঁদের সবার নাম খসড়া তালিকায় থাকবে। কমিশনের জারি করা নির্দিষ্ট ১১টি নথির একটিও যদি তিনি না দাখিল করতে পারেন, তাহলেও। ১ আগস্ট প্রকাশ হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তা দেখে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম তোলা এবং নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে কমিশন বারবার অনুরোধ করছে, ইনিউমারেশন ফর্ম ফিল আপের সময়ই যাতে নথি দেওয়া হয়। এবং অহেতুক কিছু লোকের কথায় ভোটাররা যেন বিভ্রান্ত না হন। 
যদিও এভাবে জন্মস্থানের প্রমাণপত্র চেয়ে আদতে কমিশন মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বলেই সরব বিরোধীরা। তৃণমূল আগেই প্রশ্ন তুলেছে, ভোটাররা যদি ফেক হয়, তাহলে ২০২৪ সালে তারা ভোট দিল কীভাবে? নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা ভোটার তালিকার নাম দেখেই তো ভোট হয়েছে! বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশেই ইন্টেনসিভ রিভিশন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। আর তার ‘পদ্ধতি’ নিয়েই সরব হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনে তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ অসাংবিধানিক। এটি আটকানো দরকার। একইসঙ্গে দেশের আর কোথাও যেন এভাবে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা’ও। পাশাপাশি কমিশনের এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ তো চলছেই। প্রশ্ন উঠছে পরিচয়পত্রের তালিকা নিয়ে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি করেছেন, ‘পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। আধার, ১০০ দিনের কাজের জবকার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে তো ভোট দেওয়া যায়। আধার যদি নাগরিকত্বেরই প্রমাণই না হয়, তাহলে কমিশন সেটা কীভাবে অনুমোদন করে? আসলে বিজেপি বুঝে গিয়েছে, বিহারে এবার মহাজোট ইন্ডিয়ার কাছে তারা হারবে। তাই কমিশনকে দাবার বোড়ে করে প্রায় ২০ শতাংশ ভোটার বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এটা রুখতেই হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ