Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬

৯০০ বছরের ভুল ভাঙল! ভোপালের জাদুঘরে প্রাচীন সরস্বতী মূর্তি আসলে কে? উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

৯০০ বছরের ভুল ভাঙল! ভোপালের জাদুঘরে প্রাচীন সরস্বতী মূর্তি আসলে কে? উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৯:১১
Prefer us on Google

ভোপাল, ১৪ জুলাই: লাল বেলেপাথরের তৈরি একটি প্রাচীন মূর্তি ঠিক যেন দেবী সরস্বতী। কিন্তু হাতে বীনা নেই। নেই তাঁর বাহন হাঁসও। কালের নিয়মে ভেঙে গিয়েছে মূর্তির কিছু অংশ। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের স্টেট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত প্রায় ১২শ শতকের এই প্রাচীন মূর্তি নিয়ে সামনে এসেছে বড়সড় তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে এটিকে দেবী সরস্বতীর মূর্তি বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানালেন এটি দেবী সরস্বতী না বরং দেবী গায়ত্রীর বিরল ভাস্কর্য। আর এই আবিস্কারেই ৯০০ বছর ধরে জানা তথ্যের ভূল ভাঙল সবার।

Advertisement

এই মূর্তিটি আগে মধ্যপ্রদেশের ধার জাদুঘরে ছিল। পরে এটিকে ভোপালের স্টেট মিউজিয়ামে নিয়ে আসা হয়। সরকারি নথিতেও এতদিন এটি সরস্বতীর মূর্তি হিসেবেই নথিভুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ মূর্তিটির আসল পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় মূর্তিটি যদি সরস্বতী দেবীরই হয়ে থাকে তাহলে হাতে বীনা নেই কেন? প্রথমে ধারনা করা হয়েছিল ভেঙে যাওয়া একটি হাতেই হয়ত বীণা ছিল। কিন্তু আধুনিক থ্রি-ডি  স্ক্যানিং ও ডিজিটাল বিশ্লেষণে দেখা যায় সেই ভেঙে যাওয়া হাতে বীনা নয় বরং সেই হাতে ছিল পদ্ম। এর পরেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে প্রত্নতত্ত্ববিদদের। মূর্তিটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও গবেষকরা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে শুরু করেন। উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

চার হাতবিশিষ্ট দেবী ললিতাসন ভঙ্গিতে বসে আছেন। একটি হাতে রয়েছে জপমালা, অন্য হাতে পদ্ম এবং আরেক হাতে বেদ বা ধর্মগ্রন্থ। একটি হাত ভাঙা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেও পদ্ম বা অন্য কোনো বস্তু ছিল। মূর্তির ডান পাশে একটি রাজহাঁস খোদাই করা রয়েছে যা জ্ঞান, সত্য-মিথ্যা বিচারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দেবীর দুই পাশে স্বর্গীয় দূতদের মূর্তিও খোদাই করা আছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের দাবি, প্রাচীন ভারতীয় মূর্তিশাস্ত্র এবং শ্রীমদ্‌দেবীভাগবত পুরাণে দেবী গায়ত্রীর যে রূপের বর্ণনা রয়েছে, এই মূর্তিটি তার সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়। হিন্দু ধর্মে গায়ত্রী, সাবিত্রী এবং সরস্বতী তিন দেবীকেই জ্ঞান ও চেতনার প্রতীক হিসেবে মানা হয়, তবে তাঁদের মূর্তিতে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট লক্ষ্য করা যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ