Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬

ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দিল কমিশন, ক্ষুব্ধ মহুয়া, রায় শোনানোর আর্জি জানিয়ে চিঠি মমতার

নির্বাচন কমিশন তৃণমূলকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দিল। মহুয়া মৈত্র ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন গদ্দারদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরকে ২৫ জুলাই  পর্যন্ত সময় দিল কমিশন, ক্ষুব্ধ মহুয়া, রায় শোনানোর আর্জি জানিয়ে চিঠি মমতার
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনে নিজেদের বক্তব্য জমা দিতে আরও ১৫ দিন সময় চাইল ঋতব্রতদের তৃণমূল। আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের সময় দেওয়া হল। তারই মধ্যে কমিশনের দিল্লির অফিসে ফের চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের সচিবকে দু’ পাতার ওই চিঠি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, কমিশনের নির্দেশ মতো গত ৬ জুলাই তৃণমূল দল যে তাঁদেরই, তা বিস্তারিত ব্যাখা করে ১৪ পাতার চিঠি দেওয়া হয়েছে। অথচ ‘অন্য যারা’ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করছে, তারা এখনও পর্যন্ত কমিশনে কোনো জবাব দেয়নি। ফলে ‘আমাদের দাবিকেই মান্যতা দিয়ে কমিশন রায় শোনাক’ বলেই আর্জি জানিয়েছেন মমতা।  

Advertisement

গত ২ জুলাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সাক্ষাতের পরেই কমিশন দু’ পক্ষকেই ৬ জুলাই বিকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জমা দিতে বলে। নির্দেশ পালন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থীরা বক্তব্য জমা করলেও ঋতব্রতরা করেননি। উল্টে ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় চান। কমিশন যা মঞ্জুর করে। এখন ফের ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হল। 
যা জেনে সোমবার তৃণমূলের দু‌ই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ ফুঁসে ওঠেন। নয়াদিল্লির ৬১ সাউথ এভিনিউতে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, কেন তৃণমূলের ওই গদ্দার গ্যাংকে অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন? ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তো জবাব দিতে পারেনি। তারপরেও কেন ওদের জবাবের অপেক্ষা করা হবে? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক চিঠিকেই মান্যতা দেওয়া হবে না? ঋতব্রতদের খোঁচা দিয়ে মহুয়ার মন্তব্য, আসলে গদ্দারদের বলার মতো কিছু নেই। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে ওরা কিছুই জানে না। কোনো অবদানই নেই। তা ধরা পড়ে যাচ্ছে। তাই মিথ্যে তথ্য বানানোর জন্য সময় নিচ্ছে। 
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই’তে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারছেন না। ফলে বিদ্রোহীদের লোকসভায় বসার নতুন আসন সংখ্যাও স্থির হচ্ছে না। এদিকে, আগামী সোমবার ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তাই নিজেদের অবস্থান জানতে এদিন সংসদ ভবনে ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষদস্তিদার। বৈঠকে সুদীপবাবুরা বলেন, এনডিএ’তে বিজেপির পরেই তাঁদের সংখ্যা। ২০ জন। সরকার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দল। তাই সংসদ ভবনে তাঁদের এনসিপিআই দলের নতুন বসার ঘরও চাওয়া হয়। তবে স্পিকার জানিয়েছেন, আগে আপনারা আপনাদের দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে কে কোন পদ ঠিক করে নিন। প্রস্তাব পাশ করুন। সেই মতো আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে বিদ্রোহী তৃণমূলরা এনসিপিআই হিসেবে প্রস্তাব পাশ করে সুদীপবাবুকে দলের লোকসভার নেতা, কাকলি মুখ্য সচেতক এবং শতাব্দী রায়কে উপদলনেত্রী ঘোষণা করে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে এনসিপিআই গোটা দলটাই বিজেপিতে মিশে যাবে? 
জানতে চাওয়ায় সুদীপবাবু এবং কাকলিদেবী বলেন, এমন কোনো বিষয়ে কোথায় কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা এনসিপিআই সাংসদ হিসেবেই সংসদে বসব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ