Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬

দিল্লি দাঙ্গা: অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর তাহির হুসেনকে দোষী সাব্যস্ত আদালতের

দিল্লি দাঙ্গা: অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর তাহির হুসেনকে দোষী সাব্যস্ত আদালতের
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৬
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই:  দীর্ঘ ছয় বছর পর। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে প্রাক্তন আম আদমি পার্টি কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির একটি আদালত। সোমবার করকরডুমা আদালত তাহির হুসেন, জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকে হত্যাকাণ্ডে দোষী ঘোষণা করেছে।

Advertisement

আদালত তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে শত্রুতা ছড়ানো, দাঙ্গা, হামলা, অপরাধমূলক শক্তি প্রয়োগ এবং খুনের মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত করেছে। তবে এই মামলায় অভিযুক্ত আরও ছয়জনকে আদালত বেকসুর খালাস করেছে। বিচারক জানিয়েছেন, ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। দোষীদের সাজা এখনও ঘোষণা করেনি আদালত। সাজা নির্ধারণ নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মামলার অভিযোগ ও নথিপত্র বিবেচনা করে তাহির হুসেনের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল।

তাহির হুসেনের আইনজীবী আবদুল গফফর জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চতর আদালতে আবেদন করবেন। অন্যদিকে, নিহত আইবি আধিকারিকের ভাই অঙ্কুর শর্মা দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাহিরের মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত। আম আদমি পার্টি জানিয়েছে, তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে দলের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। 

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, তাহির হুসেন এবং তাঁর সহযোগীরা অঙ্কিত শর্মাকে অপহরণ করে হত্যা করেছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়, দাঙ্গার সময় তাহির হুসেনের কার্যালয় থেকে উসকানি দেওয়া হয়েছিল এবং হামলাকারীদের একটি দল হামলা চালানোর ভয়ও দেখিয়ে ছিল। 

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তথা সিএএ বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক দাঙ্গা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে কিছু জিনিস আনতে বেরিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন এবং পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে যে খাজুরি খাস এলাকায় একটি নালা থেকে একটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে সেটি অঙ্কিত শর্মার দেহ বলে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দেহটি খাজুরি খাস এলাকার নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং পরিচয় গোপন করার জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশ অ্যাসিড দিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র কুমার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, চাঁদবাগ পুলিয়া ও কারওয়াল নগর রোড এলাকায় সিএএ-বিরোধী ও সিএএ-সমর্থক বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সেসময় তৎকালীন কাউন্সিলার তাহির হুসেন হামলাকারীদের জড়ো করে হিংসায় উসকানি দিয়েছিলেন এবং অঙ্কিতকে অপহরণ ও হত্যা করেছিল। দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার সেই মামলায় রায় ঘোষণা করল কারকারদুমা আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ