


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল সন্দেশখালি। সূত্রের খবর, এই বিধানসভার ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত সেহেরা-রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতে অডিটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান কার্যত জোর করে সদস্যদের একাংশকে অডিট ফাইলে সই করাতে চাইছিলেন বলে অভিযোগ। তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় বচসা। এরপর পঞ্চায়েত অফিসেই তৃণমূল সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দু’পক্ষই।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সন্দেশখালি বিধানসভায় বহিষ্কৃত ও জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও সুকুমার মাহাতর দু’টি ‘লবি’ সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি পঞ্চায়েতস্তরেও এই দুই লবির বিরোধ মাথাচাড়া দিচ্ছে। এদিন এই পঞ্চায়েতেও একই ঘটনা ঘটে। একাধিক সদস্যদের দাবি, পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান শেখ শাহজাহানের গোষ্ঠীর। তাঁরা মাত্র আটজন সদস্যকে নিয়ে কাজ করেন। বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ১১ জন সদস্যের এলাকায় কোনও কাজ হয় না। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের হিসেবের ক্ষেত্রে সিংহভাগ সদস্যকেই অন্ধকারে রাখা হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার ছিল পঞ্চায়েতের অডিট। এদিন একেবারে শেষবেলায় প্রধান ও উপপ্রধান জোর করে সদস্যদের অডিট ফাইলে সই করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। বিক্ষুব্ধ সদস্যদের বক্তব্য, ‘পঞ্চায়েতের কাজের ক্ষেত্রে গরমিল আছে। অডিটে তা আমাদের নজরে আসায় আমরা সই করিনি। এরপর প্রধান ও উপপ্রধান বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে আমাদের মারধর করান। মহিলা সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে।’
এই পঞ্চায়েতের সদস্য তৃণমূলের অমিত, বলরাম সর্দাররা বলেন, ‘প্রধান আর উপপ্রধান ১১ জন সদস্যকে একঘরে করে রেখেছেন। এই সদস্যদের এলাকায় কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। উন্নয়নের কাজ স্থগিত। ওইদিন অডিটে আমরা প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হতে হল।’ পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি দাস অবশ্য বলেন, ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ কটাক্ষের সুরে বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, ‘আসলে সবটাই কাটমানি নিয়ে অসন্তোষ। এটা আগামী দিনে আরও বাড়বে।’ নিজস্ব চিত্র