Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খড়গপুরে চলন্ত ট্রেনে সিআইডি তল্লাশি, উদ্ধার বাংলাদেশি তরুণী

জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে করে মুম্বই পাচারের আগেই এক বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করল সিআইডি। ওই সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারী পাচার চক্রের মাথা জাহাঙ্গির বিশ্বাসকেও।

খড়গপুরে চলন্ত ট্রেনে সিআইডি তল্লাশি, উদ্ধার বাংলাদেশি তরুণী
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে করে মুম্বই পাচারের আগেই এক বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করল সিআইডি। ওই সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারী পাচার চক্রের মাথা জাহাঙ্গির বিশ্বাসকেও। সীমান্ত এলাকায় নারী পাচারের সিন্ডিকেট চালাচ্ছে এই অভিযুক্ত। তাকে জেরা করে এই চক্রের বাকি মাথাদের ধরার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

কয়েকদিন আগে সিআইডি আমডাঙা এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় ফারুক নামে এক অভিযুক্তকে। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বসিরহাট, বনগাঁ, স্বরূপনগরসহ উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নারী পাচারে জড়িত। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে নারী পাচার চক্রের মাথাদের যোগাযোগ রয়েছে। কাজের টোপ দিয়ে এই তরুণীদের অবৈধভাবে এপারে আনা হয়। এরপর বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানের অন্ধকার জগতে বেচে দেওয়া হচ্ছে। ‘এসকর্ট গার্ল’ হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। নিষ্পাপ মেয়েগুলির ঠাঁই হচ্ছে দেহব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন হোটেলে। 
সিআইডি সূত্র জানাচ্ছে, ফারুককে জেরা করে তদন্তকারীরা জাহাঙ্গিরের নাম পান। তার কাছেও এক তরুণী এসেছে এবং তাকে মুম্বই পাচারের তোড়জোড় চলছে। আর জাহাঙ্গির হল সীমান্তে নারী পাচার চক্রের বড়ো চাঁই। অবৈধভাবে ভারতে ঢোকা তরুণীদের ‘রিসিভ’ করছে সে’ই। তারপর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের কোনও বাড়িতে রাখা হচ্ছে তাদের। সেখানে এই সমস্ত তরুণীর নামে জাল আধার, ভোটার কার্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি বানানো হচ্ছে। বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে তরুণীদের ভিন রাজ্যে পাঠাচ্ছে জাহাঙ্গির। তার মোবাইল ট্র্যাক করে সিআইডি জেনেছে, বুধবার ওই তরুণীকে নিয়ে সে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে উঠবে। সেইমতো সিআইডি টিম শালিমার স্টেশনে পৌঁছে ওই ট্রেনে উঠে তল্লাশি চালায়। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে এগোতেই একটি এসি কামরায় ওই তরুণীকে পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার করা হয় জাহাঙ্গিরকে। তাদের খড়্গপুরে নামিয়ে, অবশেষে আনা হয় কলকাতায়।
জাহাঙ্গিরকে জেরা করে সিআইডি জেনেছে, বাংলাদেশে কাজকর্ম তেমন নেই। নারী পাচার চক্র এই মওকায় একেবারে চনমনে হয়ে উঠেছে। এপারের দুর্বৃত্তদের সঙ্গে যোগসাজশে, চাকরির টোপ দিয়ে বাংলাদেশি তরুণীদের এখানে আনা হচ্ছে। অতঃপর চলছে তাদের অন্ধকার জগতে পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধ। এই দুষ্টচক্রে আরও কারা জড়িত? ধৃতকে জেরা করে সীমাম্ত এলাকার একাধিক দুর্বৃত্তের নাম পেয়েছে সিআইডি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ