Bartaman Logo
২৬ আগস্ট, ২০২৬

ছক রাসায়নিক হামলারও, অস্ত্র চীনা ‘সি-বম্ব’

একদিকে ফরিদাবাদের হাসপাতালের একঝাঁক ডাক্তারের দেশজুড়ে টেরর মডিউল তৈরি এবং খাস লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অস্তিত্বের জানান। ঠিক তখন সকলের অন্তরালে তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলার গ্রাম থেকে উঠে আসা এক ডাক্তার এগিয়ে গিয়েছে রাসায়নিক হামলার প্ল্যান নিয়ে।

ছক রাসায়নিক হামলারও, অস্ত্র চীনা ‘সি-বম্ব’
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একদিকে ফরিদাবাদের হাসপাতালের একঝাঁক ডাক্তারের দেশজুড়ে টেরর মডিউল তৈরি এবং খাস লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অস্তিত্বের জানান। ঠিক তখন সকলের অন্তরালে তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলার গ্রাম থেকে উঠে আসা এক ডাক্তার এগিয়ে গিয়েছে রাসায়নিক হামলার প্ল্যান নিয়ে। দেশজুড়েই। গুজরাতের অ্যান্টি  টেররিস্ট স্কোয়াড হায়দরাবাদে অভিযান চালিয়ে যাকে গ্রেপ্তার করেছে, সেই ডক্টর আহমেদ মহিউদ্দিন সঈদের ঘরে মিলেছে রাসায়নিক বিস্ফোরক তৈরির আস্ত ইউনিট! যাকে বলা হচ্ছে ‘সি বম্ব’। শুধুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেমিকেল অ্যাটাক নয়, তিনজনের একটি টিমের লক্ষ্য ছিল খাদ্যের মাধ্যমে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া। এর কোড নেম? রাইসিন প্লট। ২০১৮ সালে জার্মানিতে এক দম্পতি রাইসিন বোমার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল। সেই ধাঁচেই পরিকল্পনা ছিল ভারতে রাইসিন অ্যাটাকের। এই ডঃ সঈদ একজন এমবিবিএস হয়েও অনলাইন আউটলেট চেইনের অংশিদারিত্ব নিয়ে রেখেছে। তার সঙ্গে চীনের যোগসূত্র আছে। এমবিবিএস ডিগ্রিও চীনের মেডিকেল কলেজের। রাইসিন গাছের বীজ থেকে ক্যাস্টর অয়েল বের করে নেওয়ার পর যা পড়ে থাকে, সেই অবশেষ চরম বিষাক্ত। এটাই রাইসিন বিষ। খাবারে মিশিয়ে দিলেই কেল্লাফতে। এই তদন্তই করছিল গুজরাত পুলিশ। সেই সূত্রে তারা গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশের দুই বাসিন্দাকে। মহম্মদ সুহেল এবং আজাদ সুলেমান শেখ। এই আজাদ আগস্ট মাসে কলকাতায় গিয়েছিল একটি ইসলামিক সম্মেলনে যোগ দিতে। দিল্লি মার্কাজের পক্ষ থেকে, ৪০ দিনের জন্য। ৭ নভেম্বর সে উত্তরপ্রদেশের শামলিতে ফিরে আসে। সঈদকে এই দু’জনই রাসায়নিক সাপ্লাই করত বলে পুলিশের সন্দেহ। প্ল্যান ছিল, কেমিকেল বম্বের মধ্যে এমন কিছু বিষাক্ত উপকরণ মিশিয়ে দিতে হবে, যা বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার মাধ্যমে মিশে যাবে বাতাসে। এবং ওই ধোঁয়ায় ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধে থাকা মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। এখন গুজরাত পুলিশের মাথাব্যথা হল, রাইসিন প্লটের পরিকল্পনা ঠিক কেমন ছিল? অর্থাৎ কোনও জমায়েত অথবা সমাবেশে খাবার সরবরাহ করা হলে, খাবারে রাইসিন বিষ মিশিয়ে দেওয়া? নাকি অন্য‌ ঩কোনও চক্রান্ত? গুজরাত পুলিশ জানতে পারছে, এই ‘সি বম্ব’ মডিউলেরও লক্ষ্য ছিল দিল্লিতে হামলা করা। গুজরাত এটিএস দিল্লি পুলিশকেও ইনপুট দিয়েছে। উভয় রাজ্যের পুলিশের কাছে প্রধান চিন্তা একটাই—ফরিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে রাইসিন প্লট নির্মাতাদের কোনও যোগাযোগ নেই তো?

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ