Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

পাকিস্তানকে অপারেশন সিন্দুরের রিয়েল টাইম তথ্য জুগিয়েছে চীন! ‘ভারতকে লড়তে হয়েছে তিন দেশের সঙ্গে’, দাবি সেনাকর্তার

অপারেশন সিন্দুর সফল। শুধু ইসলামাবাদকে শিক্ষা দেওয়া হয়নি, পর্দাফাঁস হয়েছে নয়া ভারতবিরোধী অক্ষেরও—পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীন।

পাকিস্তানকে অপারেশন সিন্দুরের রিয়েল টাইম তথ্য জুগিয়েছে চীন! ‘ভারতকে লড়তে হয়েছে তিন দেশের সঙ্গে’, দাবি সেনাকর্তার
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর সফল। শুধু ইসলামাবাদকে শিক্ষা দেওয়া হয়নি, পর্দাফাঁস হয়েছে নয়া ভারতবিরোধী অক্ষেরও—পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীন। বেআব্রু হয়ে গিয়েছে ভারত-পাক সংঘাতে চীনের ভূমিকা। অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন ভারতীয় সেনার গতিবিধির ‘রিয়েল টাইম আপডেট’ ইসলামাবাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বেজিংই। পাকিস্তানকে সামনে রেখে জি জিনপিংয়ের দেশ কার্যত ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে। পাক সীমান্তে একসঙ্গে তিন শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়েছে অপারেশন সিন্দুরে। শুক্রবার দিল্লিতে বণিকসভার এক অনুষ্ঠানে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন ভারতীয় সেনার ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং।

Advertisement

অপারেশন সিন্দুরে ভোঁতা হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। চীনের থেকে তা কিনেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, উপ সেনাপ্রধানের দাবি, সীমান্তে সংঘাত যখন তুঙ্গে, সেই সময় ভারত কখন কোথায় সেনা মোতায়েন করছে বা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—সেই তথ্য নিয়মিত পেয়েছে পাক সেনা। আর সেকথা পাকিস্তান নিজের মুখেই স্বীকার করেছে। এদিন তিনি বলেন, ‘ডিজিএমও স্তরে আলোচনার সময় পাকিস্তান জানায়, তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত। ভারত যে অ্যাকশনের জন্য প্রস্তুত, তা পাক সেনা জানত। আমরা যাতে আর না এগোই, সেই অনুরোধও করা হয়। অর্থাৎ, চীন থেকে ওরা আগাগোড়া লাইভ ইনপুট পেয়েছে।’ যদিও তাতে লাভ বিশেষ হয়নি।
এদিন দিল্লিতে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-র অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন উপ সেনাপ্রধান। সেখানে ইসলামাবাদের পাশাপাশি তিনি নিশানা করেন বেজিংকেও। সেই প্রসঙ্গেই প্রাচীন চীনের সমর বিশেষজ্ঞ জেনারেল সান জু’র বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’-এর প্রসঙ্গ টানেন তিনি। বলেন, সান জু’র রণকৌশলগুলির মধ্যে অন্যতম হল— ধার করা ছুরি দিয়ে হত্যা করা। বেজিংয়ের অভিসন্ধি ছিল সেটাই। ওরা ভেবেছিল, উত্তর সীমান্তে নিজেরা সংঘাতে না জড়িয়ে, প্রতিবেশীদের (পাকিস্তান) ব্যবহার করে ভারতকে চাপে ফেলবে। 
তুরস্ক যেভাবে পাকিস্তানের প্রতি ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’ দেখিয়েছে, সেকথাও ভাষণে উল্লেখ করেন উপ সেনাপ্রধান। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘পাকিস্তান সামনে থেকে লড়াই করেছে। আর চীন তাদের সবরকম সাহায্য জুগিয়ে গিয়েছে। একইভাবে পিছন থেকে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে তুরস্কও। যার একটাই অর্থ, সীমান্ত একটা হলেও ভারতকে তিন শত্রুদেশের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।’
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানকে ৮৩০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে চীন। লেফটেন্যান্ট জেনারেলের দাবি, সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই এখন চীন থেকে আমদানি করা। চীন চেয়েছিল, এই অস্ত্রগুলি অন্যদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করতে। তাই এই লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ওরা গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য। সেনাকর্তা জানিয়েছেন, এই অপারেশন থেকে ভারতীয় সেনা বেশ কিছু শিক্ষাও নিয়েছে। সরকারের কৌশলগত বার্তা ছিল স্পষ্ট। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দাদের জোগাড় করা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে ২১টি টার্গেট স্থির করা হয়েছিল। পরে তার মধ্যে ন’টি টার্গেটে হামলা করা হয়। কোন কোন জায়গায় আক্রমণ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একদম শেষ মুহূর্তে।

সম্পর্কিত সংবাদ