Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দু’বার ফেরানো হয়েছে মুখ্যসচিবের আবেদন, মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকায় প্রশ্ন

দু’বার ‘রোল ব্যক’-এর শিকার হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী! অর্থাৎ দু’বার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য তাঁর আবেদন।

দু’বার ফেরানো হয়েছে মুখ্যসচিবের আবেদন, মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকায় প্রশ্ন
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’বার ‘রোল ব্যক’-এর শিকার হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী! অর্থাৎ দু’বার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য তাঁর আবেদন। এই ঘটনায় আঙুল উঠছে মাইক্রো অবজার্ভারদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, যথাযথ কারণ ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়েছে মুখ্যসচিবের আবেদন। যে কারণে নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তিনি চিহ্নিত হয়েছেন ‘বিচারাধীন’ হিসেবে। 

Advertisement

এসআইআর পর্বে ভোটাধিকার প্রমাণ করতে শুনানির সম্মুখীন হতে হয়েছিল নন্দিনীদেবীকে। তখন তিনি ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রদত্ত আইডেন্টিটি কার্ড, জন্ম শংসাপত্র এবং পাসপোর্ট—সবই ছিল তাঁর কাছে। সেগুলির মধ্য থেকে জমা নেওয়া হয় পাসপোর্ট, যা কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে একটি। প্রশাসনিক মহল সূত্রে খবর, মুখ্যসচিব বা তার আগে স্বরাষ্ট্র সচিবের মতো পদের কাজের চাপ সামলেও শুনানিতে তাঁর নথি জমা দেয়ার প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে। স্বাভাবিকভাবেই নথি নিয়ে কোনো সংশয় না থাকায় সংশ্লিষ্ট ইআরও-এইআরও তা ‘আপলোড’ করে দেন। স্বাভাবিক নিয়মেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তাঁর নাম রয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। কমিশন অবশ্য এক্ষেত্রে কোনো ‘ত্রুটি’ হয়েছে বলে মনে করছে না। তাদের তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এইআরও, ইআরও, মাইক্রো অবজার্ভার এবং বিশেষ পর্যবেক্ষকরা যাচাই করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
রাজ্যের মুখ্যসচিবের ক্ষেত্রে কেন এমনটা ঘটল? জানা গিয়েছে, সমস্ত নথি ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা ছাড়াই তা ফেরত পাঠিয়ে দেন মাইক্রো অবজার্ভার। এটা ছিল প্রথমবার। ফলে ইআরও-এইআরও ফের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেন। কোনো সমস্যা না পেয়ে ফের ছাড়পত্র দেন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যসচিবের নাম রাখার পক্ষে। কিন্তু এবারও একইভাবে আবেদন ফেরত পাঠিয়ে দেন মাইক্রো অবজার্ভার। পুনরায় ‘রিভিউ’ করতে বলেন। এই ঘটনা মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজে লাগিয়ে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এক অভিজ্ঞ আমলা বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভোটাধিকার নিয়ে যদি এমন ছিনিমিনি খেলা হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়াটা কি খুব একটা কষ্টকর ব্যাপার?’ তবে এক্ষেত্রে প্রতিহিংসার তত্ত্বও খারিজ করছে না ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, শনিবার প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা। তারপর থেকে নাম বাতিল হওয়া বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা অনেকেই জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে তাঁদের ভোটাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইছেন। সূত্রের খবর, সেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ং মুখ্যসচিবের নাম ‘বিচারাধীন’ হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে শান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ