নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘একেই বলে তীরে এসে তরি ডোবা’—‘জলস্বপ্ন’ (কেন্দ্রীয় স্তরে ‘জল জীবন মিশন’) প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে এমনই অভিমত প্রকাশ করছেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল। কারণ, দীর্ঘ ১০ মাস এই প্রকল্পের একটি টাকাও রাজ্যকে দেয়নি মোদি সরকার। ফলে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে। তবে শুধু বাংলা নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেরও একই পরিস্থিতি। ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে নয়াদিল্লি এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা করলেও কেন্দ্রেরই প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে রয়েছে এর বাস্তবায়ন।
কিন্তু এই জট কাটবে কবে? রাজ্যগুলি প্রকল্পের টাকা পাবে কবে? রাজ্যে এই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই)। তাদের তরফে একাধিকবার এই সমস্ত প্রশ্ন করেও কেন্দ্রের কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ। ফলে শেষমেশ আসরে নামতে হল মুখ্যসচিবকে। শুক্রবার স্টেট ওয়াটার স্যানিটেশন মিশনের অষ্টম অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন কেন্দ্রের যুগ্মসচিব স্তরের আধিকারিকরা। সেখানেই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এই খাতের টাকা দ্রুত ছাড়ার দাবি জানান। নচেৎ প্রকল্প রূপায়ণের গতি শ্লথ হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় দল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে বাংলার বহু মানুষ। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের পাওনা ৫,০৪৯ কোটি টাকা। তার মধ্যে মাত্র ২৫২৪ কোটি টাকা বাংলাকে দিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের অংশের ঘাটতি মেটাতে নিজের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্য। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য। কেন্দ্রীয় টাকার সমতুল্য অর্থই বরাদ্দ করে রাজ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রে টাকা না দিলেও গত অর্থবর্ষে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত দিয়েছে মমতা বদ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই সমস্ত সমস্যা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে ৯৮ লক্ষ ১২ হাজার ১৪৯টি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করেছে রাজ্য।
এদিন জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত, ভূমিসংস্কারসহ কয়েকটি দপ্তরের সচিবদের পাশাপাশি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিটি জেলাশাসক। কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্যের দাবি করা ছাড়াও বর্তমানে তাঁদের হাতে এই খাতের যে টাকা বেঁচে আছে তা ব্যবহার করে যতদূর সম্ভব কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
ওইসঙ্গে ১২ লক্ষ ‘বাংলার বাড়ি’ তৈরির কাজে গতি আনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আবার বিভিন্ন দপ্তরের অধীনস্থ জমির মিউটেশনের কাজও যাতে দ্রুত শেষ হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।