Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি বাড়ি পরিদর্শন না করেই মিথ্যা রিপোর্ট জমা, হতবাক প্রধান বিচারপতি

বেআইনি বাড়ি পরিদর্শন না করেই মিথ্যা রিপোর্ট জমা, হতবাক প্রধান বিচারপতি

বেআইনি বাড়ি পরিদর্শন না করেই মিথ্যা রিপোর্ট জমা, হতবাক প্রধান বিচারপতি
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর কলকাতায় ফের বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ! আর সেই নির্মাণ পরিদর্শন না করেই মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ পুর ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট ওই পুর ইঞ্জিনিয়ারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সেইসঙ্গে জুন মাসের মধ্যে ওই নির্মাণের বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে, ভেঙে ফেলা যে হয়েছে, তার সচিত্র রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোয় ওয়াটগঞ্জে একটি বাড়ি দোতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু অভিযোগ, বেআইনিভাবে সেটি পাঁচ তলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, এই মামলা দায়ের করার জন্য ওয়াটগঞ্জ থানা তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। শুধু তাইই নয়, বেআইনি নির্মাণকারীর সঙ্গে  পুর ইঞ্জিনিয়ারেরও যোগসাজস রয়েছে। 
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন হলফনামা জমা দেন কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিক। ওই হলফনামা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এটি হলফনামার ধরন! পুরসভা বাড়ির পরিকাঠামো দেখবে, এক জন ইঞ্জিনিয়ার বাড়ি পরীক্ষা করবেন। বেআইনি কী হয়েছে, কতটা হয়েছে তা নিয়ে রিপোর্ট দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। ওই অফিসার তা না-করে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর সঙ্গে মিলে কাজ করছেন! ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নিজেকে কী অতিচালাক মনে করেন? কাকে সাহায্য করছেন ওই অফিসার? এখনই সাসপেন্ড করছি। এসএন ব্যানার্জি রোডের অফিস থেকে বাড়ি যেতে হবে না। সোজা জেলে পাঠাব। কেন হলফনামা দিয়ে আদালতকে ভুল বোঝানো হচ্ছে?’ একই সঙ্গে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘থানার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তারা মামলাকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’ এরপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুর্নীতি দেখলে একবার পদক্ষেপ করুন। দেখবেন, আগামী দিনে আর কেউ তা করতে সাহস পাবে না।’ 
এরপরই নির্দেশে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আগামী ১৬ মে’র মধ্যে ওই বাড়ি খালি করতে হবে। পুরসভাকে নোটিস পাঠাতে হবে। বাড়ি খালি না করলে কলকাতার পুলিস কমিশনারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। তারপর ওই বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করতে হবে। জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন ছবি-সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। শুধু তাইই নয়, ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকায় কত বেআইনি নির্মাণ রয়েছে, পুলিস ও পুরসভাকে তা চিহ্নিত করতেও নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ