Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোদির জনসভায় বিশৃঙ্খলা, অমিত শাহর আসরে ভিড় বাড়াতে ভিনরাজ্যের কর্মীরা

সামনেই দ্বিতীয় তথা চূ‌ড়ান্ত দফার ভোট গ্রহণ রাজ্যে। প্রচার পর্ব তুঙ্গে। ভিনরাজ্য থেকে নেতা-মন্ত্রীরা আসছেন বাংলা দখলের বরাত নিয়ে। ডেরা বেঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্বাচনি সভায় চলছে তর্জন গর্জন। কিন্তু সভার অবস্থা দেখে কপালে ভাঁজ গেরুয়া কর্তাদের।

মোদির জনসভায় বিশৃঙ্খলা, অমিত শাহর আসরে ভিড় বাড়াতে ভিনরাজ্যের কর্মীরা
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সামনেই দ্বিতীয় তথা চূ‌ড়ান্ত দফার ভোট গ্রহণ রাজ্যে। প্রচার পর্ব তুঙ্গে। ভিনরাজ্য থেকে নেতা-মন্ত্রীরা আসছেন বাংলা দখলের বরাত নিয়ে। ডেরা বেঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্বাচনি সভায় চলছে তর্জন গর্জন। কিন্তু সভার অবস্থা দেখে কপালে ভাঁজ গেরুয়া কর্তাদের। 

Advertisement

শুক্রবার বারুইপুরে ছিল নরেন্দ্র মোদির সভা। সেখানে ফাঁকা রইল অধিকাংশ আসন। তীব্র দাবদাহ। গলদঘর্ম অবস্থা। এর মধ্যে বারুইপুরের টংতলা হ্যাপিভ্যালি গ্রাউন্ডে সভা করেন মোদি। মৈপীঠ, কুলতলি, জয়নগর, ধামুয়া, দক্ষিণ বারাসত থেকে লোক এনেও মুখরক্ষা হল না। সভার পিছনের দিকে ছাউনি না থাকায় প্রবল রোদে অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে যান। ছিল না পাখার ব্যবস্থা। বিজেপি কর্মীদের অনেকেই বলেন, মোদিকে দেখার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু গরমের জেরে হল না। এক মহিলা সমর্থক বলেন, দুপুর ১২টায় মোদি আসবেন বলা হয়েছিল। আর সভায় এলেন দুপুর ২টোর পরে। এমন জানলে আসতাম না। জলের ব্যাবস্থা পর্যন্ত করা হয়নি সভায়। সভাতে মাঝে মধ্যেই বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার সময় অনেকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তাঁদের বাইরে বেরতে দেওয়া হয়নি। উত্তরপাড়ায় ছিল অমিত শাহের সভা। সেখানেও প্রত্যা঩শিত ভিড় হয়নি। সভা ছেড়ে মাঝপথে লোক চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দলসূত্রে জানা গিয়েছে, গত একমাস ধরে ভিনরাজ্যের কর্মকর্তারা জেলায় ঘাঁটি গেড়ে বসে আছেন। হাজার খানেক কর্মকর্তা এসেছেন। তাঁরাই এদিনের সভায় ভিড় জমিয়েছিলেন। সঙ্গে হুগলি ও হাওড়া থেকে বেশকিছু লোক আনা হয়েছিল। তাতে একটি রাজনৈতিক সভার মতো চেহারা দেওয়া গিয়েছিল। তারপরেই ফাঁকা চেয়ার, শামিয়ানার নীচে ফাঁকা জায়গা দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, যেটুকু জমায়েত হয়েছিল তাতেও উদ্দীপনা কার্যত দেখা যায়নি বললেই চলে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তরপাড়ার শিল্পাঞ্চল হিন্দমোটরের হাল ফেরানোর প্রতিশ্রুতি শাহ দিয়েছেন। তবে কীভাবে তা করা হবে, স্পষ্ট করেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ওই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। উত্তরপাড়ার তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতবর্ষের বাইরে? ১৩ বছর বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। আজ এত বছর পরে হিন্দমোটরে সভা করে শিল্প ফেরানোর ডাক কেন দিচ্ছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? আসলে হুগলি এবং বাংলার মানুষকে তিনি বোকা ভাবেন। ভাবছেন, যা বলব সবাই বিশ্বাস করবে। কিন্তু তা হবে না। 
শাহ আরও বলেন, বাঙলায় বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না। প্রথম দফার ভোটে সন্ত্রাস রুখে দিয়েছি। আগামী দিনে বাঙলাকে সন্ত্রাস মুক্ত করব। এই ভোট বাংলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারীদের তাড়ানোর ভোট। বিকেলে জগদ্দলের মেঘনা মোড়ের কাছ থেকে বিজেপির প্রার্থীর রাজেশ কুমারের সমর্থনে রোড শো করেন অমিত শাহ। শ্যামনগর আতপুর পেট্রোল পাম্পের রোড শো শেষ হয়। পুরো ঘোষপাড়া রোডে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
রায়দিঘি বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী পলাশ রানার সমর্থনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সভা করেন রায়দিঘি গোলপার্কে। তাঁর বক্তব্যে মেরুকরণের  ছাপ ছিল স্পষ্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ