নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পুজোর আগে সুন্দরবনে বোট বুকিং নিয়ে কালোবাজারি বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ। জঙ্গলে পর্যটকদের নিয়ে যেসব লঞ্চ বা বোট যায়, তাদের অনলাইনে আগাম বুকিং করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় এবার বদল আনল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ। এতদিন যে যেমনভাবে পারতেন, অন্যের বোট বুকিং করে রাখতেন। তাতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত বোট মালিক জানতে পারতেন না। দেখা দিত নানা বিভ্রান্তি। কিন্তু এখন আর তা করা যাবে না। এবার ওটিপি ভিত্তিক বুকিং হবে। অর্থাৎ, বুকিং করার সময় সংশ্লিষ্ট বোট মালিকের ফোনে ওটিপি যাবে। সেটা দিয়ে অনলাইনে বুকিং করতে হবে। সোমবার থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে সুন্দরবনে। তবে বুকিং করেও যদি কোনও বোট জঙ্গলে না যায়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কোনও বোট মালিক এমন ঘটনা দু’বার ঘটালে তাঁর বোটের লাইসেন্স সার্টিফিকেট এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, সুন্দরবনে রোজ ১২০টি করে বোট পর্যটকদের নিয়ে ভ্রমণ করতে পারে। জানা গিয়েছে, পুরনো নিয়মে এক শ্রেণির মানুষ অসাধু উপায়ে বোট বুকিং করতেন। পর্যটকরা বোট বুকিং না করলেও তাঁরা বুকিং স্লট আটকে রাখতেন। এতে অনেক প্রকৃত পর্যটক বঞ্চিত হতেন। টাইগার রিজার্ভের কাছে এই মর্মে অভিযোগ আসছিল। তাই বুকিং পদ্ধতিতে আমূল বদল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কতজন পর্যটককে নিয়ে বোট যাবে, বুকিংয়ের সময় তার উল্লেখ করতে হয়। অনেক সময় সেই সংখ্যা শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হলেও তা জানানো হতো না। এবার বোট মালিকরা তা সংশোধন করতে পারবেন।
এছাড়াও এবার বুকিং স্লটে ওয়েটিং লিস্ট চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ, দিনে ১২০টি বোটের বুকিং হয়ে গেলে তারপর ২৮টি বোটের নাম এই তালিকায় ঢুকবে। কোনও কারণে আগে বুকিং নেওয়া বোট যাত্রা বাতিল করলে ওয়েটিং লিস্টে থাকা বোট সেই জায়গা পূরণ করবে। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিক বলেন, বুকিং নিয়ে কালোবাজারি রুখতেই নিয়মে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।