নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মা সোনিয়া এবং দাদা রাহুলের নামে ইডি চার্জশিট দেওয়ায় ফুঁসে উঠলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সরাসরি মোদিকেই ছুঁড়লেন চ্যালেঞ্জ। স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘মোদিজির উচিত পরামর্শদাতা বদলানো। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁরা ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন। এই স্ট্র্যাটেজি আর কাজ করছে না। সবাই দেখছে প্রতিহিংসার রাজনীতি হচ্ছে। এজেন্সির অপব্যবহার হচ্ছে। তাই বলছি, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় গান্ধী পরিবারকে ইডি’র জুজু দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না।’ একইসঙ্গে বলেন, ‘তদন্তের কাজে সবসময় সহযোগিতা করব। মা, দাদা, আমার স্বামীকেও ইডি ডেকেছে। আমাকে কেন ডাকছে না? অপেক্ষায় আছি।’
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কয়েকদিন আগেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লির রাউস এভিনিউ আদালতে নতুন করে চার্জশিট জমা দিয়ে সোনিয়া-রাহুল গান্ধীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছে ইডি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস যেমন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব, পাল্টা বিজেপিও চার্জশিটের স্বপক্ষে বাড়াচ্ছে প্রচার। মঙ্গলবার বিষয়টি ‘হাইলাইট’ করতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বেনজিরভাবে একটি কাপড়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে আসেন বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ। যেখানে লেখা ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড কি লুট।’ ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক চলছিল সংসদের অ্যানেক্সিতে। যে কমিটির সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। বাঁশুরির কাঁধে ব্যাগটি দেখে বৈঠকের মধ্যেই প্রিয়াঙ্কা শ্লেষের হাসিতে বলেন, ‘বা ব্যাগটি বেশ ভালো তো। আইডিয়াটা কার?’ বাঁশুরি অবশ্য কোনও জবাব দেননি।
কিছুদিন আগে একইরকমভাবে ‘প্যালেস্তাইন’ লেখা ব্যাগ নিয়ে সংসদে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ইঙ্গিত ছিল মোদিকে তোপ। সংসদীয় কমিটির বৈঠকের মাঝে চা পানের বিরতিতে প্রিয়াঙ্কাকে পাওয়া গেল সরাসরি। প্রশ্ন করতেই মোদিকে আক্রমণ করেন সোনিয়া-কন্যা। বলেন, ‘আমার স্বামী (রবার্ট ওয়াধেরা)কে ডেকে ইডি জিজ্ঞেস করেছে, ১৭ বছর আগে মাকে কেন চার লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন? ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় যে সম্পত্তি ইয়াং ইন্ডিয়ানের নামেই নেই, তা তারা বেচবে কী করে? পুরো মিথ্যের উপর মামলা।’
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘মাকে যখন ইডি ডেকেছিল তখনও আমি সঙ্গে গিয়েছিলাম। আবার জমির মামলায় কয়েকদিন আগে স্বামীকে সমন দেওয়ায় আমি ইডি’র অফিসে গিয়েছিলাম। ওয়েটিং রুমে বসেছিলাম। অন্য আরও যাদের নানা মামলায় ডাকা হয়েছিল তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছিলাম কেন ডেকেছে। শুনলাম হয়, হয় অবৈধ জুলুমের (এক্সটরশন) কেস, নয়ত রাজনৈতিক। মজার ব্যাপার হল, বিজেপিতে যোগ দিলেই সব মামলা থেকে মুক্তি। ওয়াশিং মেশিন।’