Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমজুড়ে চন্দ্র পরিবারের পুজো, বর্গীদের থেকে বাঁচতে বর্ধমান থেকে হাওড়ায়

বাংলায় তখন নবাবী শাসন চলছে। নজর পড়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরও। এমন সময় শুরু বর্গী আক্রমণ। প্রাণ রক্ষা করতে বর্ধমান ছাড়ল গন্ধবণিক চন্দ্র বংশ।

ডোমজুড়ে চন্দ্র পরিবারের পুজো, বর্গীদের থেকে বাঁচতে বর্ধমান থেকে হাওড়ায়
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাংলায় তখন নবাবী শাসন চলছে। নজর পড়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরও। এমন সময় শুরু বর্গী আক্রমণ। প্রাণ রক্ষা করতে বর্ধমান ছাড়ল গন্ধবণিক চন্দ্র বংশ। হাওড়ার এসে পৌঁছল তারা। এল ডোমজুড়ের খাঁটোরা গ্রামে। তারপর বাড়িতে শুরু করল দুর্গাপুজো। এরপর তিন শতাব্দী সময় গড়িয়েছে। বহুবার নেমে এসেছে বহু দুর্যোগ। কিন্তু বন্ধ করা হয়নি পুজো। ৩২৮ বছর পেরিয়ে খাঁটোরা গ্রামের চন্দ্রবাড়ির পুজো আজও বহন করে চলেছে ঐতিহ্য। 

Advertisement

বর্ধমানের আদ্রা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন নরসিংহ চন্দ্র। ডাকাত ও বর্গিদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিবার সমেত নৌকোয় সরস্বতী নদী পেরিয়ে উপস্থিত হন ডোমজুড়ের খাঁটোরা গ্রামে। সেখানে বহু কালীমন্দির দেখতে পান। গ্রামটি আশ্রয়ের জন্য নিরাপদ বলে মনে করেন। গ্রামেই স্থায়ীভাবে শুরু করেন বসবাস। এখান থেকেই নতুনভাবে বাণিজ্য শুরু তাঁদের। ব্যবসায় আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটতেই বাড়িতে দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বাংলার ১১০৪ সন, মহা ধুমধামের সঙ্গে চন্দ্রবাড়িতে দুর্গাপুজোয় মেতে উঠলেন গ্রামবাসীরা। এই বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী, পুজোয় প্রতিপদ তিথিতে দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে আহ্বান জানানো হয়। ষষ্ঠীর দিন হয় ঘট স্থাপন। আগে মোষ বলির প্রচলনও ছিল। এখন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার বদলে ফল বলি হয়। নিষ্ঠা মেনে এখনও সেকালের বিশালাকার খাঁড়ার পুজো হয় দুর্গাদালানে। সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম নিবেদনের রীতি।
তিন শতাব্দীতে কখনও অগ্নিকাণ্ড, কখনও মড়ক লেগে লোকসানের মতো বিপত্তির মুখোমুখি হয়েছে এই পরিবার। বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম বলেন, ‘অতীতে বাড়ির একজনের মৃত্যু হলে পুজোর আয়োজনে বাধা পড়ে। তখন অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়া এই বাড়ির গোত্রান্তরিত মেয়েরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে পুজোর আয়োজন করেছিলেন। পুজো বন্ধ হবে শুনে বহুবছর আগে বাড়ির এক গৃহকর্ত্রী নাকি আত্মঘাতী হতেও গিয়েছিলেন।’ অষ্টম প্রজন্মের সদস্য অর্ণব চন্দ্র বলেন, ‘চন্দ্রবাড়ির পুজো এখন গোটা খাঁটোরা গ্রামের পুজো। গ্রামের বাসিন্দারা না থাকলে পুজো সম্পূর্ণ হয় না। ’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ