Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১ নভেম্বর শোভাযাত্রা, আলোর ইন্দ্রজাল ও থিমের সম্মোহন নিয়ে তৈরি চন্দননগর

ঐতিহ্য আর থিমের দাপুটে সমাবেশে শুরু হয় পুজো। তেমনই শেষ হয় আর এক ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানেও থাকে থিমের দাপট।

১ নভেম্বর শোভাযাত্রা, আলোর ইন্দ্রজাল ও থিমের সম্মোহন নিয়ে তৈরি চন্দননগর
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: ঐতিহ্য আর থিমের দাপুটে সমাবেশে শুরু হয় পুজো। তেমনই শেষ হয় আর এক ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানেও থাকে থিমের দাপট। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো যেমন জগৎখ্যাত তেমনই খ্যাতি তার ভাসানের শোভাযাত্রার। সেই শোভাযাত্রাতেই থিমকে জড়িয়ে থাকে ভুবনভোলানো আলোর সমাবেশ। পয়লা নভেম্বর সকাল গড়ালেই শুরু হয়ে যাবে আলোকমায়ায় মাতানোর প্রতিযোগিতা। বিকেল গড়ালেই আলোর নতুন থিমসজ্জায় সেজে উঠবে শোভাযাত্রার ঐতিহ্যের সরণি। সেই প্রস্তুতি প্রায় শেষ। উদ্যোক্তা ও আলো শিল্পী সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর আলোর নতুন রকমের কলাকৌশল দেখা যাবে। একাধিক পুজো কমিটি ভাসানের শোভাযাত্রায় থাকবে চির নতুনের ডাক।

Advertisement

চন্দননগরের সম্বলা শিবতলা রথের সড়কের ভাসানের শোভাযাত্রা থিম, সংস্কৃতি। ভারতবর্ষকে তারা ভাগ করেছেন চারভাগে, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম। ভাসানে ভারতের সেই চার দিশার নানা মাইলফলককেই আলোর মায়ায় তুলে ধরবেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা অভিজিৎ সেন বলেন, আমাদের ভাসানের শোভাযাত্রা মুগ্ধ করে দেবে। নতুন রকমের আলোকসজ্জা দেখিয়ে তাক লাগানোর দাবি ইতিমধ্যেই পেশ করে রেখেছে উত্তরাঞ্চল। উদ্যোক্তারা এবারে একটি বিমূর্ত থিমকে সামনে রেখে ভাসানের শোভাযাত্রা সাজিয়েছেন। সেখানে যান্ত্রিক মাধ্যমে যেমন আলোর বাহার দেখা যাবে তেমনই থাকবে অভিনব আলোর সাজ। পুজো উদ্যোক্তা মোহিত নন্দী বলেন, চন্দননগরের আলোক শিল্পের এক নতুন পর্যায় আমাদের শোভাযাত্রা থেকেই প্রকাশ্যে আসবে। বারাসাত ব্যানার্জি পাড়ার এবার হীরকজয়ন্তী বর্ষ। তাদের ভাসানের থিম মাতৃস্নেহ। মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আলোর মায়ায় বর্ণময় ঢঙে তুলে ধরা হবে। তবে মজা হচ্ছে, মানুষের পাশাপাশি সেখানে পশুপক্ষীর বাৎসল্যও প্রকাশিত হবে। পুজো উদ্যোক্তা শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, একবছর ধরে থিমের সাজ তৈরি করা হয়েছে। চমকের পরে চমক থাকবে। চন্দননগরের বুকে শোভাযাত্রা হলেও আলোকসজ্জা আনা হচ্ছে শান্তিপুর থেকে। শুধু মাত্র প্রতিযোগিতার ময়দানে তুফান তুলে দিতে ওই উদ্যোগ নিয়েছে দৈবকপাড়া সর্বজনীন। তাদের এবারের থিম শিবশক্তি। উদ্যোক্তা বিজয় গুহ মল্লিক বলেন, একাধিক শৈবতীর্থকে আশ্রয় করে ‘আলোর জাদু’ দেখানো হবে। আমাদের শোভাযাত্রার সঙ্গে থাকবে জব্বলপুরের ব্যান্ড। বিশ্বখ্যাত শোভাযাত্রা থেকেই নিজেদের দেবীর জন্য নতুন পরিচয়ের প্রকাশ ঘটাতে তৈরি হচ্ছে লালবাগান সর্বজনীন। তাদের এবারের থিম ‘গিন্নি মা’। পুজো উদ্যোক্তা কল্যাণ রাম বলেন, ৭১ বছরের শোভাযাত্রা থেকেই আমাদের দেবী ‘গিন্নি মা’ নামে পরিচিত হবেন। সেটিকে কেন্দ্র করে আলোর মোহজাল তৈরি করা হচ্ছে। এমন অগণিত শোভাযাত্রার মায়াময় রাতে বেশোহাটা হাজির হবে ‘সার্কাস’ নিয়ে। 
একদিকে সার্কাসের আদল অন্যদিকে আলোর সার্কাস। পুজো উদ্যোক্তা সুদীপ দাস বলেন, চমকের গুচ্ছ উপকরণে সাজছে বেশোহাটা। দেবীকে হীরের গয়নায় সাজিয়ে থিম পুজোতেই চমক দিয়েছিল হেলাপুকুর। শোভাযাত্রায় তারা হাজির হবে, ত্রি-তত্ত্ব থিম নিয়ে। পুজো উদ্যোক্তা সুমিত সরকার বলেন, দেবতাদের ত্রিশূলের ভাবকে বিকশিত করে আলোর সম্মোহন তৈরি করা হবে। রাতের সাবেক সনাতন পথ দিয়ে যাবে অভিনব সজ্জিত পদযাত্রা। আলোর ইন্দ্রজাল আর থিমের সম্মোহনই যে চন্দননগরের শেষবেলার শীর্ষ চমক, গোপন প্রস্তুতি তাই তুঙ্গে, ফরাসডাঙার মাঠেঘাটে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ