শ্যামবাজার নিবাসী গোবিন্দচন্দ্র সরকার স্বপ্নদৃষ্ট হলেন মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। মা অন্নপূর্ণার স্বপ্ন পেয়ে নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে গঙ্গার নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে তুললেন পাঁচ চূড়া বিশিষ্ট মন্দির। মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা নিপুন হাতে তৈরি করলেন মন্দিরের অঙ্গসজ্জা। সুদূর জয়পুর থেকে অষ্টধাতুর দেবীমূর্তি তৈরি করে আনা হল। ভবানী শঙ্করকে ভিক্ষা প্রদান করছেন, সেই মূর্তি স্থাপিত হল বাগবাজারের মন্দিরে। তবে ভিক্ষা গ্রহণরত মহাদেব ও তাঁর সঙ্গী বৃষ পাথরের তৈরি। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা গোবিন্দচন্দ্রের ইচ্ছে অনুসারে দেবী অন্নপূর্ণা এখানে স্থাপিত হলেন মা যোগেশ্বরী নামে। তাই শ্রীশ্রী মহাযোগেশ্বরী আশ্রম নামেই পরিচিতি পেল এই মন্দির।
বাগবাজারে শ্রীমা সারদা দেবীর বাড়ির কিছু দূরে ২/৩ রামকৃষ্ণ লেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মন্দির। প্রতিষ্ঠাকাল— ৫ চৈত্র, ১৩২৯ (১৯২২)। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আজও ভক্তদের মঙ্গলে এখান থেকে অন্নপূর্ণা কবচ প্রদানের রীতি রয়েছে। সারা বছর মন্দিরে নিত্য দু’বেলা ফল মিষ্টি সহ পুজো হয়। সারা বছরের মধ্যে শারদীয়া দুর্গাপুজোর অষ্টমী ও চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমীর দিন অন্নপূর্ণা মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বিশেষ মর্যাদা ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় এই দুই দিন। এই দু’দিন মা অন্নপূর্ণার সামনে হয় কুমারী পুজো ও হোম। তবে এই দুই বিশেষ পুজোয় দিনের বেলায় নানা রকম ফল ও মিষ্টি দিয়ে পুজো হলেও এই সন্ধ্যার পর মাকে ফল-মিষ্টির সঙ্গে লুচি ও দুধ নিবেদন করা হয়। বছরের অন্য কোনও সময় অবশ্য তা হয় না। এই অন্নপূর্ণা মন্দিরের প্রাচীন রীতি অনুসারে আজও কোনও অন্নভোগ নিবেদন হয় না। গোবিন্দ সরকার ও তাঁর স্ত্রী তুলসী মণি দাসী প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে সারা বছর ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে অন্নপূর্ণা পুজো ও শারদীয়া মহাষ্টমীর দিনে ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শতবর্ষ অতিক্রম করা উত্তর কলকাতার এই শ্রী শ্রী মহা যোগেশ্বরী আশ্রম তথা অন্নপূর্ণা মন্দিরটি ঐতিহ্যশালী বাগবাজারের অন্যতম দ্রষ্টব্য।