নয়াদিল্লি, ৮ মে: পহেলগাঁওতে ২৫ জন ভারতীয় ও একজন নেপালের বাসিন্দাকে গত ২২ এপ্রিল নৃশংসভাবে খুন করে জঙ্গিরা। সেই হামলার দায় স্বীকার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। যদিও পাকিস্তান এই হামলার ব্যাপারে তাদের যোগ থাকার কথা বারবার অস্বীকার করেছে। কিন্তু তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় পরোক্ষভাবে টিআরএফ জঙ্গি সংগঠনের পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানেরই। তাই ওই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের উপর ডিজিটাল স্ট্রাইক করে ভারত। একাধিক পাক সংবাদমাধ্যম ও ইউটিউব চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
এমনকী পাক ক্রিকেটার-অভিনেত্রীদের ইনস্টগ্রাম অ্যাকাউন্টও দেশে ব্যান করেছে নয়াদিল্লি। এবার পাকিস্তানের উপর আরও একটি ডিজিটাল আক্রমণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে বিভিন্ন ধরনের ওটিটিতে সম্প্রচারিত সমস্ত পাকিস্তানি সিনেমা, রিয়্যালিটি শো, সঙ্গীত, পডকাস্ট ও ওয়েব সিরিজের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। এমনকী ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পাকিস্তানের যাবতীয় সিনেমা, গান, ওয়েবসিরিজ সরিয়ে দিতেও বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ। আজ, বৃহস্পতিবার সেই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করে নয়াদিল্লি। তাতে বলা হয়, ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে প্রভাবিত করে, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক, অন্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পক্ষে ক্ষতিকারক বা হিংসা ছড়ায় এমন বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভারতের সংহতি, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের পক্ষে ক্ষতিকর কোনও তথ্য যাতে সম্প্রচারিত, প্রকাশিত না-হয়, ওটিটি মাধ্যমগুলিকে তা মাথায় রাখতে হবে। ভারতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তাতে অনেক ভারতীয় এবং এক নেপালি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাই জাতীয় সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সকল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, চ্যানেল এবং প্রচারকারী মাধ্যমকে পাকিস্তানে তৈরি ওয়েবসিরিজ, সিনেমা, সঙ্গীত ও পডকাস্ট অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’