


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শাসক দল যারাই হোক না কেন। দেশের ২৮টি রাজ্যের সরকারই তাদের ভাগের ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। অর্থ কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দফায় দফায় এই দাবি তুলেছে তারা। কিন্তু কেন্দ্র এই দাবির বিরুদ্ধে বলেই জানা গিয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যে আর্থিক ফরমুলা চালু হবে, সেখানে রাজ্যের প্রাপ্তির পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্রের আপত্তির জেরেই অর্থ কমিশন রাজ্যকে প্রদেয় ট্যাক্সের হার বৃদ্ধির পথে হাঁটবে না। বরং যে পরিমাণ ট্যাক্সের ভাগ এখন রাজ্যগুলি পায়, সেই হারই বজায় থাকবে। অর্থাৎ ৪১ শতাংশ।
যে কোনও অর্থ কমিশন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্কের ফরমুলার সুপারিশ করার আগে কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয় পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে। সেই রীতি অনুযায়ী ষোড়শ অর্থ কমিশন দেশের সব রাজ্য সফরে গিয়ে সেখানকার সরকারগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রায় সব রাজ্যই স্পষ্ট তাদের ভাগের ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি তুলেছে। বর্তমানে দেশজুড়ে যে ট্যাক্স আদায় হয়, তার ৪১ শতাংশ করে রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়। সেই পরিমাণ অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে এমনকী বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যও। কিন্তু সরকারি সূত্রের খবর, কেন্দ্র অর্থ কমিশনকে জানিয়েছে, রাজ্যকে প্রদেয় ট্যাক্সের পরিমাণ এক ধাক্কায় বেড়ে গেলে উন্নয়ন ও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ আটকে যাবে। কারণ কেন্দ্র বিগত কয়েকবছর ধরে পরিকাঠামো খাতে খরচ বিপুল বাড়িয়েছে। শেষ বাজেটেই ১১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারে। সেই তুলনায় আয়ের পথ প্রশস্ত হয়নি। ঠিক এই কারণেই পেট্রপণ্যকেও জিএসটির আওতায় আনতে বারংবার চাইছে কেন্দ্র। কিন্তু প্রায় সব রাজ্যের বাধায় সেটা হয়নি। দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের ক্ষোভ যে, তারা ট্যাক্স বেশি দেয় কেন্দ্রকে। তারা উৎপাদক রাজ্য। অথচ অর্থ কমিশনের ফরমুলা অনুযায়ী তাদের বঞ্চিত হতে হয়। অনুৎপাদী রাজ্যগুলি উৎপাদক রাজ্যগুলির টাকার ভাগ পেয়ে যায়। দক্ষিণ ভারতের সব রাজ্যই অর্থ কমিশনকে জানিয়েছে তারা যেন সুপারিশ করে ৫০ শতাংশ ট্যাক্সের ভাগ দিতে হবে রাজ্যকে। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। রাজ্য সফর সমাপ্ত হয়েছে ষোড়শ অর্থ কমিশনের। অক্টোবর মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে চুড়ান্ত সুপারিশ সংবলিত রিপোর্ট। রাজ্যগুলির প্রাপ্যের পরিমাণ যদি না বৃদ্ধি পায়, তাহলে সবথেকে সঙ্কটে পড়বে রাজ্যগুলিই। সেক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্কট তীব্র হবে। কারণ ২৯০২৬ সালের মার্চ মাসে সমাপ্ত হয়ে যাচ্ছে, জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেসও।