


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রাজ্যের একটিও ইএসআই হাসপাতালের নিজস্ব বার্ন ইউনিট নেই। প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া চলছে। তাই রাজ্যের ২০ লক্ষ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি মানুষের জন্য নিজস্ব বার্ন ইউনিটের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। রাজ্যের পাঠানো সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে শ্রম মন্ত্রকের অধীন ইএসআই কর্পোরেশন। রাজ্য শ্রমদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিজস্ব এবং উন্নত বার্ন ইউনিট থাকলে রোগীদের লাট্টুর মতো চরকিপাক খেতে হয় না। শ্রমিক বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভালো পরিষেবা পাবেন। ইএসআই’র খরচও বাঁচবে। কারণ, বার্ন বা আগুনে পোড়ার ঘটনার চিকিৎসা অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ। প্রাইভেট হাসপাতালে নিমেষে লক্ষ লক্ষ টাকা বেরিয়ে যায়। তারা সেই অর্থ দাবি করে ইএসআই’র কাছে।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১৩টি ইএসআই হাসপাতাল রয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুর, মানিকতলা, শিয়ালদহ, উলুবেড়িয়া, বালটিকুরি, বেলুড়, বজবজ, কামারহাটি, ব্যাণ্ডেল, শ্রীরামপুর, গৌরহাটি এবং কল্যাণীতে রয়েছে হাসপাতালগুলি। এই হাসপাতালগুলির পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় দেখে রাজ্য শ্রমদপ্তরের অধীনস্থ ইএসআই এমবি (মেডিক্যাল বেনিফিট স্কিম)। আর্থিক সাহায্য করে ইএসআই কর্পোরেশন। তবে তা অনেকটাই মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো বিষয়! মাসে মাসে বেতনের ০.৭৫ শতাংশ কেটে নিচ্ছে কর্পোরেশন। ৩.২৫ শতাংশ দিচ্ছে মালিকপক্ষ। এভাবে বেতনের ৪ শতাংশই যাচ্ছে স্বাস্থ্যপ্রকল্প ইএসআইতে।
এখানকার পরিষেবা তিনভাগে বিভক্ত। প্রাইমারি, স্পেশালিটি এবং সুপারস্পেশালিটি কেয়ার। সুপারস্পেশালিটি কেয়ারে রয়েছে কার্ডিওলজি (স্টেন্টিং) এবং কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি (বাইপাস ও অন্যান্য), নেফ্রোলজি (ডায়ালিসিস) এবং ইউরোলজি (নেফ্রেকটমি), নিউরোলজি এবং নিউরোসার্জারি, অঙ্কোলজি, অঙ্কোসার্জারি, হেমাটোলজি, বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি, গ্যাসট্রো এবং জিআই সার্জারি। এই ‘সুপারস্পেশালিটি’ পরিষেবাগুলি দেওয়ার জন্য শ্রমদপ্তরের সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০-৭০টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে।
এই অবস্থায় নিজেদের হাসপাতালে স্টেন্টিং, ভালভ পরিবর্তন ইত্যাদি করার জন্য আসানসোলে একটি ক্যাথল্যাব এবং মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে একটি বার্ন ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শ্রমদপ্তর। সেই অনুযায়ী আর্থিক অনুমোদনের জন্য জুন মাসে রাজ্য শ্রমদপ্তর কেন্দ্রের কাছে ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট গড়ার প্রস্তাব দেয়।
দপ্তর ঠিক করেছিল, কেন্দ্র রাজি হলে প্রথমে মানিকতলায়, পরে আসানসোলে বার্ন ইউনিট গড়ে তোলা হবে। একইভাবে আসানসোলে ৬ কোটি টাকায় কার্ডিওলজি ক্যাথল্যাব গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দু’টি প্রস্তাবই খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, উন্নত বার্ন ইউনিট গড়ে তুলতে দপ্তরের অফিসারদের ওড়িশার বিখ্যাত একটি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পরিকাঠামো দেখে আসতে বলা হয়। সেই পরিদর্শনের পর ডিজাইনারদের দিয়ে নকশা তৈরি করে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সবটাই বাতিল হয়েছে।