নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মহলের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে। সেই রাজ্যকেই এবার তরল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পুরস্কৃত করছে মোদি সরকার। অম্রুত প্রকল্পে পুরস্কার বাবদ এই প্রথম ইনসেনটিভ পেতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের পুর ও নগোরন্নয়ন দপ্তরের অধীনে গড়ে ওঠা ১৬টি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি)-এর কাজ দেশের মধ্যে সেরা বলে বিবেচিত হয়েছে। এসটিপি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পোর্টালে। দেশের সমস্ত পুরসভা এই কাজ করার পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়। সেই বাছাইয়ে উঠে আসা এসটিপিগুলির কাজ খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। এই পুরস্কার ঘোষণার আগে মোট তিনবার রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। কয়েক মাস ধরে চলা এই প্রতিযোগিতার ফলাফল চূড়ান্ত হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে। সফলভাবে তরল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অম্রুত প্রকল্পের অধীনে ১৬ কোটি টাকা ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পে অধিকাংশ টাকা খরচ করতে হয় রাজ্যকেই। অম্রুত-২ প্রকল্পের অধীনে এরাজ্যে মোট ১০,৩৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে মোট ১,৪৯৫ কোটি টাকার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৪৯৫ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। বাকি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের কোষাগার থেকে। শীঘ্রই এই খাতে আরও ১,২০০ কোটি টাকা কেন্দ্র ছাড়তে চলেছে বলে খবর। সেক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা ছাড়া হবে। এই অবস্থায় অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে টক্কর দিয়ে এই ইনসেনটিভ ছিনিয়ে নিয়ে আসা বাংলার জন্য বড় সাফল্য বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
বাড়িঘর, কলকারখানা থেকে উৎপাদিত তরল বর্জ্য সাধারণত নর্দমার মাধ্যমে নিষ্কাশন হয়। এসটিপির মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াকরণের পর নদীতে ফেলা হলে দূষণ এড়ানো যায় বহুলাংশে। এর আগে উত্তরপাড়া, হাওড়া, নবদ্বীপ, বারাসত, উলুবেড়িয়া, শিলিগুড়ি, চাঁপদানি, ভাটপাড়া, কল্যাণী, উত্তর বারাকপুর এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভাকে নিকাশি, পানীয় জল সরবরাহ সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করেছে কেন্দ্র।