সংবাদদাতা, বোলপুর: রবিবারের ভরা বাজারে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি খোয়াইয়ের একদিক জমজমাট হলেও যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার বাজার কার্যত জনশূন্য। খোয়াই পাড়ের শিল্পহাট নামে পরিচিত সেই বাজারে এদিন কোনও পর্যটক দেখা যায়নি। মাত্র চারজন শিল্পী পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। অথচ ৩০০জন শিল্পী ওই হাটে তালিকাভুক্ত। ররিবর এই হাটে এমন শূন্যতা আগে সচরাচর দেখা যায়নি। চারদিন আগে খোয়াইপাড়ের জঙ্গলে এক যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক গ্রাস করেছে। শিল্পীরা বলছেন, পর্যটকরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সেকারণে অনেকে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া এলাকায় ঘেঁষতে চাইছেন না। তাই এই হাটে নিরাপত্তা জোরদার করতে অবিলম্বে সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবি তুলেছেন হাটে বসা শিল্পীরা।
জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, মৃতার পরিচয় শনাক্ত করার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্যের থানাগুলিতেও তথ্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দু’জনের সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়েছে। তাদের পরিচয় জানতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে সোনাঝুরি হাট লাগোয়া জঙ্গলের একটি ছোট গাছের গোড়ায় বছর ২৫-এর এক যুবতীর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। শান্তিনিকেতন থানার পুলিস দেহ উদ্ধার করে। মৃতার চোখ-মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, অন্যত্র খুন করে রাতের অন্ধকারে চারচাকা গাড়িতে এনে দেহ ফেলে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির চাকার দাগও মিলেছে।
ঘটনার পরই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিস। মৃতার পরিচয় জানতে শান্তিনিকেতন ও বোলপুর থানার বিভিন্ন লজ, হোটেল ও রিসর্টের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই চলছে। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহের সুরতহাল হয়। সিআইডির ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনাও সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। ফলে খুনের কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা আরও গভীর হয়েছে। এদিন দুই হাটে দুই ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে। বল্লভপুর অভয়ারণ্যে সেচদপ্তরের সংকীর্ণ ব্রিজের আগে ও পরে দু’টি হাট রয়েছে। পরেরটি খোয়াই হাট নামে পরিচিত। সেখানে এদিন পর্যটকদের জমজমাট ভিড় ছিল। কিন্তু মৃতদেহ উদ্ধার যেখানে হয়েছে অর্থাৎ খোয়াই পাড়ের শিল্পহাট এদিন ছিল একেবারেই নির্জন। কলকাতা থেকে আসা পর্যটক প্রবাল মণ্ডল বলেন, হাটে আসার পথে টোটো চালকের মুখে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা শুনলাম। পরিবার নিয়ে এসেছি, তাই ওই হাটে পা মাড়াইনি। সংশ্লিষ্ট হাটে এদিন পসরা পেতে বসেছিলেন পার্শ্ববর্তী থানার মঙ্গলডিহির সমীরউদ্দিন শেখ ও লোহাগড়ের সরিয়া বিবি। তাঁরা বলেন, এত বছর ব্যবসা করছি কোনওদিন রবিবার এরকম ফাঁকা দেখিনি। পর্যটকদের মনে আতঙ্ক কাজ করছে। নজরদারির ব্যবস্থা থাকলে এই ঘটনার কিনারা করতে পুলিসের সুবিধা হতো। সেজন্য এই হাটে দ্রুত সিসি ক্যামেরা লাগানো উচিত।



