Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪০৯১ ওএমআর উদ্ধারেই থমকেছে সিবিআই, বাকিগুলি আজও নিখোঁজ

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ তদন্ত করেও চার হাজারের সামান্য বেশি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা জমা দিতে পেরেছে তারা।

৪০৯১ ওএমআর উদ্ধারেই থমকেছে সিবিআই, বাকিগুলি আজও নিখোঁজ
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ১৭:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ তদন্ত করেও চার হাজারের সামান্য বেশি অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা জমা দিতে পেরেছে তারা। বাকি ওএমআর শিট না মেলায় অযোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা ঠিক কত, তার হদিশ আজও মেলেনি। আদালত এই নিয়ে বারবার প্রশ্ন করলে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি  বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জোরাল কোনও তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে না পারায়, ২৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে সিংহভাগই জামিন পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এসএসসি মামলায় ‘এলিট এজেন্সি’ সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়াকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Advertisement

হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা হাতে নেওয়ার পর তেড়েফুঁড়ে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ও সোনার গয়না। এরপর একে একে গ্রেপ্তার হন এসএসসির তদানীন্তুন চেয়ারম্যান এসপি সিনহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য সহ একাধিক এজেন্ট। তারপরই সিবিআইয়ের তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে যায়। দুর্নীতি হয়েছে তা প্রমাণ করতে ওএমআর শিট উদ্ধার ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যা থেকে বোঝা যেত, শূন্য পাওয়া প্রার্থীর নম্বর বদলে কীভাবে ৭০ হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ৪০৯১টি ওএমআর শিট উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতে সকলের নম্বর ছিল ছিল  শূন্য। পরে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা চাকরি পেয়েছেন। অদৃশ্য যাদুবলে তাঁদের কারও নম্বর হয়ে যায় ৭০ আবার কারও ৮০। এসএসসির কাছ থেকে প্রায় ২৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট চেয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তারা জানায়, এই শিট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিটের ডুপ্লিকেট কপি যে অভিযুক্তদের বাড়িতে থাকতে পারে, সেই বিষয়ে প্রথমে মাথাই ঘামাননি তদন্তকারীরা। এই সুযোগে সরিয়ে ফেলা হয় নথিগুলি। যে কারণে পরে তল্লাশি চালিয়েও আর কিছুই পাওয়া যায়নি।  এমনকী এসএসসির সার্ভার থেকে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ার পর, আর কোথায় সেগুলি পাওয়া যেতে পারে বা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কীভাবে ‘রিট্রিভ’ করা যায়, তার কোনও চেষ্টাই করেনি এজেন্সি। নাম কা ওয়াস্তে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা বোঝানোর চেষ্টা করে, ঠিক কতটা সক্রিয়!  বাকি ২২ হাজার কীভাবে চাকরি পেলেন, তার তথ্যপ্রমাণ এখনও জোগাড়ে ব্যর্থ তদন্তকারীরা। ওএমআর যেখানে ছাপানো হতো, সেখানে গিয়ে সিবিআই জেনেছিল, অতিরিক্ত শিট ছাপানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি কোথায় গিয়েছে, তার হদিশ করে উঠতে পারেনি এজেন্সি। এরই মাঝে একের পর এক অভিযুক্ত জামিন পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, সিবিআই এই মামলার তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে আদৌ কতটা সক্রিয় ছিল!  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ