নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: পুজো শেষে আজ, শনিবার কার্নিভাল উৎসবে মাতবে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। তিন জেলার মোট ৪২টি পুজো কমিটি এই কার্নিভালে অংশ নিচ্ছে। আল্পনা আঁকা পথে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নাচ, লোকসঙ্গীতের কোলাজও থাকবে। সুষ্ঠুভাবে ওই উৎসব সম্পন্ন করতে তিন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তরফে সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুপুর থেকেই কার্নিভালের জন্য নির্দিষ্ট রুটে যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকছে। তিন জেলাতেই থাকছে পর্যাপ্ত পুলিশ অফিসার ও কর্মী। প্রতিটি জেলায় বিগ বাজেটের বিভিন্ন পুজো কমিটি প্রতিমা নিয়ে কার্নিভালে অংশ নেবে।
অন্যান্য বছরের মতো তমলুক শহরে হাসপাতাল মোড় থেকে নিমতলা পর্যন্ত কার্নিভাল রুট নির্দিষ্ট করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আল্পনা আঁকা শুরু হয়। সদর মহকুমা শাসকের অফিসের সামনেই মূল মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টে থেকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। সেখানে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সহ প্রশাসন ও পুলিশের অফিসাররা উপস্থিত হবেন। থাকবেন বিধায়করাও। জেলার মোট ১৫টি পুজো কমিটি এই কার্নিভালে অংশ নেবে। তমলুক থানা এলাকার সাতটি, নন্দকুমারের দু’টি, পাঁশকুড়া ও হলদিয়া পুরসভা, চণ্ডীপুর ও কোলাঘাটের একটি করে পুজো কমিটি এবং মহিষাদলের দু’টো পুজো কমিটি কার্নিভালে অংশ নেবে। জেলার নানাপ্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা কার্নিভাল দেখতে তমলুক শহরে হাজির হবেন। তবে, বিজয়া দশমীতেই তমলুক শহর সহ জেলার নানাপ্রান্তে বেশিরভাগ প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গিয়েছে।
কার্নিভাল উপলক্ষ্যে হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কে যান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জেলাশাসক এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। দুপুর ২টো থেকেই মেচেদাগামী বাস নন্দকুমারে রাজ্য সড়কের পরিবর্তে ১১৬জাতীয় সড়ক দিয়ে চালানো শুরু হবে। বিকেল ৩টের পর থেকে হাসপাতাল মোড় থেকে নিমতলা রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকবে। শুক্রবার অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায় কার্নিভাল নিয়ে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক সারেন।
কার্নিভাল ঘিরে মেদিনীপুর শহরেও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। শহরের বটতলাচক থেকে গোলকুয়াচক পর্যন্ত কার্নিভাল রুট তৈরি করা হয়েছে। মোট ১৫টি পুজো কমিটি ওই কার্নিভালে অংশ নেবে। বিকেল ৫টা থেকে কার্নিভাল শুরু হবে। পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা গাড়িতে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার শামিল হবেন। তাতে সরকারি নানা স্কিমের পাশাপাশি বাল্য বিবাহ আটকানোর মতো বার্তা নিয়ে বড় বড় হোর্ডিংও থাকবে। কার্নিভালকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বটতলাচক সংলগ্ন পুলিশ ক্লাবের কাছে মূল অনুষ্ঠান মঞ্চ করা হয়েছে। সেখানে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশের শীর্ষ অফিসারদর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, কার্নিভাল নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে।
ঝাড়গ্রামেও কার্নিভাল নিয়ে সাজ সাজ রব। শহরে পাঁচমাথা মোড়ে মূল অনুষ্ঠানটি হবে। কার্নিভালে মোট ১২টি পুজো কমিটি অংশ নেবে। মঞ্চের সামনে পুজো কমিটির তরফে নৃত্যানুষ্ঠানের ঝলক দেখানো হবে। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের আধিকারিক সন্তু বিশ্বাস বলেন, শহরের রাস্তায় দু’টি বড় জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হবে। জেলার লোকশিল্পীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র