নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মাহি মার রাহা হ্যায়।’ এমএস ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরির সংলাপ ঝড় তুলেছিল বক্স অফিসে। প্রবল চাপেও অবিচল ক্যাপ্টেন কুল। মাহি ক্রিজে থাকা মানেই নিভু নিভু পরিস্থিতিতে সমর্থকদের আশার সলতে। নিজের দিনে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার তিনি। কিন্তু ধোনির সেরা অস্ত্রে কী মরচে ধরেছে? শনিবারের আরসিবি বনাম চেন্নাই ম্যাচের পর সেই চর্চা আরও জোরদার। গার্ডেন সিটির চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মাত্র ২ রানে ম্যাচ হারেন জাদেজা, শিবম দুবেরা। ৮ বল ক্রিজে কাটিয়েও জেতাতে ব্যর্থ মাহি। ৮ বলে ১২ রানের ইনিংস মোটেও ধোনিসুলভ নয়। ক্যাপ্টেন কুল যেন স্রেফ অতীতের ছায়া। কালের নিয়মে ধার কমছে শাণিত অস্ত্রে। টানটান ম্যাচে হারের পর নিজের কাঁধেই দায় নিয়েছেন মাহি। তাঁর মন্তব্য, ‘বড় শট খেলা দরকার ছিল। সেটা পারিনি। এমন পরিস্থিতির জন্য আমিই দায়ী।’ মহাতারকার আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা।
চলতি আইপিএলে চেন্নাইয়ের হাল বড্ড করুণ। লিগ টেবিলে সর্বনিম্ন স্থানে ‘থালা’র ফ্র্যাঞ্চাইজি। জয় মাত্র দুটো ম্যাচে। ব্যাটার ধোনি একেবারেই অচেনা। ১১ ম্যাচে সংগ্রহ মাত্র ১৬৩ রান। সর্বোচ্চ মাত্র ৩০। অধিনায়কত্বেও চেনা মেজাজ উধাও। জোর কানাঘুষো, এবার বোধহয় আইপিএলকে আলবিদা জানানোর সময় হয়েছে। টাইমিং তাঁর বরাবরই নিখুঁত। ফর্মে থাকা অবস্থায় জাতীয় দলের জার্সি তুলে রেখেছেন। মাহিকে নিয়ে আসমুদ্রহিমাচলের হাহাকার ভোলার নয়। কিন্তু কত দ্রুত বদলে যায় পরিস্থিতি। অনেকেরই মনে হচ্ছে, জেট গতির টি-টোয়েন্টিতে পাল্লা দিতে হাঁফিয়ে উঠছেন তিনি। বৈভব সূর্যবংশী, প্রিয়াংশ আর্য, অঙ্গকৃষ রঘুবংশীদের মঞ্চে নতুন করে কিছু দেওয়ার নেই মাহির। চলতি টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই তাঁকে নিয়ে ফিসফাস। ব্যাটিং অর্ডারে ক্রমশই পিছিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। চুঁইয়ে আসা খবর, হাঁটুর ব্যথায় কাতর ধোনি। নির্দিষ্ট স্পেলেই ব্যাটিং করতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আরসিবি ম্যাচ হারের পর পালের হাওয়া উল্টোদিকে বইছে। জোর গুঞ্জন, ব্যাটিং অর্ডারে আগে পাঠানো উচিত ছিল শিবম দুবেকে। সেক্ষেত্রে মাহির বদলে শিবম থাকলে হয়তো খালি হাতে ফিরতে হতো না চেন্নাইকে। তারকার রঙিন ফানুসে যেন পিন ফুটিয়ে দিয়েছে কেউ। এদিকে ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের বাইরে বিপক্ষ সমর্থকের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে এক ধোনি অনুরাগীকে। মাহির পোস্টার তুলে ধরেই রোষের শিকার হন তিনি।