Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শঙ্খ ঘোষকে বাদ দেওয়া যায় না? নতুন সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রস্তাব

স্কুল সিলেবাসের নয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম বৈঠকেই প্রশ্ন উঠল শঙ্খ ঘোষকে পাঠ্য করা নিয়ে। কেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নজরুল ইসলামের মতো কবি-সাহিত্যিকদের পরিবর্তে শঙ্খ ঘোষের লেখা পাঠ্যে থাকবে?

শঙ্খ ঘোষকে বাদ দেওয়া যায় না? নতুন সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রস্তাব
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুল সিলেবাসের নয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম বৈঠকেই প্রশ্ন উঠল শঙ্খ ঘোষকে পাঠ্য করা নিয়ে। কেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নজরুল ইসলামের মতো কবি-সাহিত্যিকদের পরিবর্তে শঙ্খ ঘোষের লেখা পাঠ্যে থাকবে? এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেবাস কমিটির সদস্য ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক সেলিম বক্স মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি গুরুদক্ষিণা দিতে চান, সেটা আলাদা বিষয়। তাহলে তো প্রশ্ন তুলতে পারি ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ কেন নয়? এটি বাংলার নাট্য ইতিহাসের একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া রচনা। এসব বললেই আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে।’ প্রসঙ্গত, সেলিম বক্স তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার সহসভাপতি। সেই সংগঠনের সভাপতি উইঙ্কল টুইঙ্কলের রচয়িতা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নিজে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, স্কুল সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান যাদবপুরেরই তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক অভীক মজুমদারের গুরুস্থানীয় ছিলেন শঙ্খ ঘোষ। তাঁর সময়েই শঙ্খ ঘোষের কবিতা, ‘আয় আরও বেঁধে বেঁধে থাকি’ মাধ্যমিকের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের সাম্প্রতিক বাংলা সিলেবাসেও রয়েছে তেলুগু কবি ভারভারা রাওয়ের একটি অনুবাদ কবিতা ‘চারণ কবি’। সেটি অনুবাদ করেছেন শঙ্খ ঘোষ। এছাড়াও নিচু ক্লাসের পাঠ্যাংশে রয়েছে শঙ্খ ঘোষের লেখা। সেলিম বক্স বলেন, ‘শুধু এটাই নয়, সিলেবাসর সূচিপত্র, জন্ম অনুসারে লেখক ও কবিদের ক্রমতালিকাতেও ভুল রয়েছে।’ দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল, লীলা মজুমদারের ‘মাকু’ গল্পটি সপ্তম শ্রেণির পক্ষে বেশিই কঠিন। তাই এই পরিবর্তনে মোটামুটি সবাই একমত ছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে অনুবাদ গল্প ‘পোটরাজ’, হেমেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘আদরিণী’ গল্পে এমন কিছু বাক্য এবং শব্দ রয়েছে, যা কিশোর মনের উপযোগী নয় বলেই শিক্ষকদের দাবি। তাই এগুলিও পরিবর্তনের দাবি উঠছে শিক্ষক মহল থেকে।
যদিও, শঙ্খ ঘোষকে বাদ দেওয়া নিয়ে আপত্তি উঠছে শিক্ষকমহল থেকেই। অনেকেরই বক্তব্য, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পরে ‘জ্ঞানপীঠ’ পুরস্কার পেয়েছেন শঙ্খ ঘোষই। তাই তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। এর মধ্যে রাজনীতি না খোঁজাই ভালো। তাছাড়া, নজরুল বা শরৎচন্দ্রকে বাদ দিয়ে তাঁকে আনা হয়েছে, এটাও ঠিক নয়। তাঁদের লেখাও সিলেবাসে রয়েছে। প্রসঙ্গত, শাসক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কবিতা লিখে তৃণমূলের একাংশের চক্ষুশূল হয়েছিলেন শঙ্খ ঘোষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ