Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও জানাতে হবে, কড়া নজরদারি কমিশনের

এবার নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে কমিশন। নির্বাচনি প্রচারে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঠিক কী প্রচার করবে, তার আগাম অনুমতি নিতে হবে কমিশনের কাছে।

প্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও  জানাতে হবে, কড়া নজরদারি কমিশনের
  • ২১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: এবার নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে কমিশন। নির্বাচনি প্রচারে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঠিক কী প্রচার করবে, তার আগাম অনুমতি নিতে হবে কমিশনের কাছে। যেদিন ভোট, তার ৪৮ ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার বন্ধ করতে হবে। কোনো প্রার্থী এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মতো ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে কী প্রচার করছেন, তার উপরও নজরদারির কড়া ব্যবস্থা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই এবার প্রার্থীকে তাঁর ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে আগাম কমিশনকে জানাতে হবে। প্রার্থীর কতগুলি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, মনোনয়ন পর্বেই তার উল্লেখ করতে হবে প্রার্থীকে। 

Advertisement

তবে ভোটের ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার প্রচার-বন্ধ পর্বে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করা কমিশনের কাছে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ।  তবে কি ওই সময়কালে প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’ করে দেবে কমিশন? যার কোনো স্পষ্ট জবাব কমিশনের কাছে নেই। তাই কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে নজরদারি তথা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ ভোটমুখী রাজ্যগুলির নির্বাচনি আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। কমিশন শুক্রবার জানিয়েছে, সাইলেন্স পিরিয়ডে যেকোনো মাধ্যমেই প্রচার নিষিদ্ধ। 
এবার প্রত্যেক প্রার্থীর ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আসল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ছদ্মনামে কোনো প্রার্থী কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামে ভুয়ো প্রচার করছে কি না, তার উপরও নজরদারি হবে। ভুয়ো প্রচার কোনোভাবেই চলবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। এআই দিয়ে তৈরি প্রচার হলে বিজ্ঞাপনে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।  
সেই কারণেই কে কী প্রচার করবে, কমিশনের তৈরি মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (এমসিএমসি) কাছে তার আগাম অনুমোদন নিতে হবে। কোনো প্রার্থী বা দল, সমাজমাধ্যমের প্রচারে কত টাকা খরচ করল, ভোট শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে তা কমিশনকে হিসাব দিতেও হবে। স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, টিভি, রেডিয়ো, প্রকাশ্যে প্রচার ব্যবস্থা, ই-পেপার, ভয়েস মেসেজ, বাল্ক মেসেজ—সব ক্ষেত্রেই কমিশনের অনুমোদন আদায় করেই বিজ্ঞাপন দিতে হবে। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘জেন জি’র যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারেরও বেড়ি পরাতে চাইছে কমিশন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের অপসারণ করে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক হিসাবে অন্য রাজ্যে পাঠানো নিয়ে কলকাতা হা‌ইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ। এদিন বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের আইএএস, আইপিএসদের অন্য রাজ্যে পাঠানোয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়। কমিশনের এই অপসারণের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করার অনুমতি চান কল্যাণ। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ