Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাক্সে জমা করছেন পরামর্শ ও অভিযোগ, কারখানার কাজ ছেড়েছেন প্রার্থী অভিজিৎ

পিচবোর্ডের বাক্সে কাগজ সেঁটে তৈরি করেছেন সাজেশন এবং অভিযোগ গ্রহণের বাক্স। তা পিঠে বেঁধে ঘুরছেন গ্রামে গ্রামে। ভোটারদের অভিযোগ এবং পরামর্শ সংগ্রহ করে বাক্সে ফেলছেন।

বাক্সে জমা করছেন পরামর্শ ও অভিযোগ, কারখানার কাজ ছেড়েছেন প্রার্থী অভিজিৎ
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: পিচবোর্ডের বাক্সে কাগজ সেঁটে তৈরি করেছেন সাজেশন এবং অভিযোগ গ্রহণের বাক্স। তা পিঠে বেঁধে ঘুরছেন গ্রামে গ্রামে। ভোটারদের অভিযোগ এবং পরামর্শ সংগ্রহ করে বাক্সে ফেলছেন। ভোটে লড়তে সম্বল এই দু’টিই। তাঁর নাম অভিজিৎ হাজরা। তিনি আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী। তাঁর প্রতীক কলিং বেল।

Advertisement

অভিজিৎবাবু আমতার কুশবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেগেছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রানিহাটির একটি কারখানার দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। ভোটের কাজের জন্য কারখানায় যাওয়া বন্ধ। ভোটের পর কাজ থাকবে কি না তা জানেন না। তবে কষ্ট করে জমানো ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ভোটে লড়তে নেমেছেন। ভোটে লড়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। ফলে মনোনয়ন জমার পর প্রতীক পেয়ে গেলেও প্রচারের নিয়মকানুন জানতেন না বলে বেরতে পারছিলেন না। কিন্তু নিজের বাইকে আমতা বিধানসভা এলাকা চক্কর দিয়েছেন। ৯০ কিলোমিটার ঘুরেছেন। দেখেছেন। বুঝেছেন। 
অভিজিৎবাবুরা চারভাই। তিনি পরিবারের ছোট ছেলে। বিয়ে করেননি। খাওয়াদাওয়া সেজদা ও মায়ের সঙ্গে। বাকি দুই দাদা-বৌদির সংসারেও যান, খাওয়াদাওয়া করেন। এখন প্রচার বলে সকালে কোনোরকমে মুড়ি-বিস্কুট খেয়ে বেরন। রাস্তায় ঘোরার সময় জল ও ডাবের জল খান। অভিজিৎ বলেন, ‘২০০৩ সালে তেগেছিয়া ও চকশ্রীরামপুর এলাকায় বিদ্যুৎ আনার জন্য আমি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তারপর মানুষের বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছয়। সামাজিক কাজকর্মও করি। কিন্তু জনপ্রতিনিধি না হলে কেউ তেমন পাত্তা দিতে চায় না। তাই মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।’ তিনি জানান, কারখানায় দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি পান। কাজে না গেলে মজুরি কাটা। জমানো টাকা দিযে ভোটে লড়াই করছেন। প্রশাসনের অনুমতি পাননি বলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে হচ্ছিল। সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত প্রচারের অনুমতি মিলেছে। রাজনীতিতে আনকোরা বলে এলাকার সব সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। তাই জন্যই বাক্স নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছে। মানুষ অভিযোগ ও সাজেশন জমা করছেন। ভোটের পর কারখানার কাজ চলে গেলে শ্রমিক হিসেবেই কাজ করবেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে সবরকমভাবে সাহায্য করছেন। প্রচারের টাকা কম পড়লে পোস্ট অফিসে ফিক্সড ডিপোজিট আছে, তা ভেঙে প্রচার চালাবেন। অভিজিৎ বলেন, বিধায়ক হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি বিধায়কের বেতনের টাকা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ