


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্যানসারে সেরে উঠে সুস্থ জীবন কাটাতে পারে ৯৪.৫ শতাংশ শিশু। বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পত্রিকা ‘ল্যানসেটে’ প্রকাশ পেল চিকিৎসকদের সাফল্যের এই সমীক্ষা। ররিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল আন্তর্জাতিক শিশু ক্যানসার দিবস। তার আগে এই সাফল্যের খতিয়ান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। নয়াদিল্লি এইমসের শিশু অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ রচনা শেঠের নেতৃত্বে ৪০ চিকিৎসের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে ইতিবাচক তথ্য। দলে ছিলেন পার্থসারথি ভট্টাচার্য, পিয়ালি মণ্ডলের মতো শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞরাও।
২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে এসংক্রান্ত সমীক্ষার কাজ। বিশিষ্ট চিকিৎসকরা মিলে তৈরি করেন ইন্ডিয়ান পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অঙ্কোলজি গ্রুপ। টানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলেছে গবেষণা। কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টার, নয়াদিল্লি এইমস, সফদরজঙের পাশাপাশি গোটা দেশের ৩১টি কেন্দ্রে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার বিস্তারিত ফলাফল বিচার করা হয়েছে। ৫ হাজার ১৪০ জন অ্যাকিউট লিউকোমিয়ার শিকার শিশুর মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, চিকিৎসার পর ৯৪.৫ শতাংশ জীবিত আছে। ক্যানসারের চিকিৎসার পর পাঁচ বছর যদি তা ফিরে না আসে, তখন তাকে ‘ক্যানসার-মুক্ত’ বলেই ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এ ধরনের হার ৯৪.৫ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার পর ৮৯.৯ শতাংশ শিশুর আর ক্যানসার সমস্যা হয়নি। ফলে নামে মারণ রোগ হলেও সঠিক চিকিৎসায় সাফল্যের কথাই উঠে এসেছে সমীক্ষায়। আট বছর ধরে চলা সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত লিউকোমিয়ায় (৪০.৯ শতাংশ)। পাশাপাশি হডকিন লিম্ফোমা (১২.৯ শতাংশ), রেটিনোব্লাস্টোমা (৭.৪ শতাংশ), বোন টিউমারের (৮.৪ শতাংশ) শিকার। আক্রান্তদের অধিকাংশেরই বয়স ২-৮ বছর। এবং বেশিরভাগই ছেলে। নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের মধ্যেই এই রোগে আক্রান্তের যেমন রিপোর্ট মিলেছে, তেমনই মিলেছে সাফল্যও। ফলে এইমস এই রিপোর্ট সামনে রেখে বলছে, সঠিক সময়ে ধরা পড়লে সেরে যায় ক্যানসারও।