Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীঘাট, সাদার্ন অ্যাভিনিউতে ৪৬ ‘স্পর্শকাতর স্পটে’ বসছে ক্যামেরা

কালীঘাট, মনোহরপুকুর, লেক প্লেস, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, লেক অ্যাভিনিউ—কলকাতা পুরসভার ৮৩ ও ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের এসব এলাকা ঘুম উড়িয়েছে লালবাজারের।

কালীঘাট, সাদার্ন অ্যাভিনিউতে ৪৬  ‘স্পর্শকাতর স্পটে’ বসছে ক্যামেরা
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীঘাট, মনোহরপুকুর, লেক প্লেস, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, লেক অ্যাভিনিউ—কলকাতা পুরসভার ৮৩ ও ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের এসব এলাকা ঘুম উড়িয়েছে লালবাজারের। নেপথ্যে ছিনতাইবাজ চক্র। প্রায়শই তাদের খপ্পরে পড়ছেন প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। ভোরের দিকে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে। সেই সুযোগে দেদার ছিনতাই, কেপমারি চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে সমস্যায় পড়ছেন। এই অবস্থায় কালীঘাট, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, লেক অ্যাভিনিউয়ের ৪৬টি ‘স্পর্শকাতর’ স্পট চিহ্নিত করল লালবাজার। সেখানে বাড়ছে নিরাপত্তা। ১১৬টি সিসি ক্যমেরা ‘ইনস্টল’ করছে পুলিশ। 

Advertisement

লালবাজার সূত্রে খবর, ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে কালী টেম্পল রোড, মনোহরপুকুর রোড, সদানন্দ রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন সকালে বহু পুণ্যার্থী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান। রাস্তাঘাট তখনও ফাঁকা থাকে। সেই সুযোগে পুণ্যার্থীদেরও টার্গেট করছে ছিনতাইবাজ ও কেপমাররা। পুলিশ জানিয়েছে, এসব এলাকা থেকে একের পর এক ছিনতাইয়ের অভিযোগ এসেছে সম্প্রতি। কালীঘাট থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন পুণ্যার্থীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ বুঝতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ, এলাকায় কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তা খুব ভালোভাবেই জানে এই দুষ্কৃতীরা। ফলে পুলিশি নজর এড়িয়ে তারা অপরাধ ঘটাতে পারছে। ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেক অ্যাভিনিউ, শরৎ চ্যাটার্জি অ্যাভিনিউ, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, লেক টেম্পল রোড সহ একাধিক সড়কে প্রাতর্ভ্রমণে বের হন স্থানীয়রা। মাঝেমধ্যে তাঁদেরও টার্গেট করে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইবাজরা। টালিগঞ্জ থানায় এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। 
পাশাপাশি দুই থানা এলাকা থেকে পরপর ছিনতাই, কেপমারির অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার। পুলিশের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট বলছে, কালীঘাট থানা ও ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১১টি এলাকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত ‘স্পর্শকাতর’। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ দিয়ে সেই এলাকাগুলি চিহ্নিত করে ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। ১১টি পয়েন্টে মোট ২০টি ক্যামেরা বসানো হবে। টালিগঞ্জ থানা ও ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত ‘ক্রাইম হটস্পট’-এর সংখ্যা অনেকটাই বেশি। রাস্তা, ক্রসিং মিলিয়ে মোট ৩৫টি স্পট চিহ্নিত করেছে লালবাজার। এর মধ্যে লেক টেম্পল রোড-লেক প্লেস ক্রসিং, এমএনকে রোড-শরৎ ব্যানার্জি রোড ক্রসিংয়ে ৪টি করে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। সব মিলিয়ে ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ৯৬টি ক্যামেরা ‘ইনস্টল’ হবে। 
কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘৪৬টি পয়েন্টে মোট ১১৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রতিটি ক্যামেরার রেজোলিউশন ৪ মেগা পিক্সেল, ৮ টিবি হার্ড ডিস্কে স্টোর করা হবে ফুটেজ। ২১ দিন পর্যন্ত এই ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে ড্রাইভে। সব মিলিয়ে ২৯ লক্ষ টাকা খরচ হবে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই লালবাজারের তরফে দু’টি দরপত্র 
ডাকা হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ