নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: একদিকে ঈদ। আর একদিকে চৈত্র সেল। সঙ্গে আবহাওয়াও অনুকূল। এতেই জমজমাট উত্তরবঙ্গের চার জেলার বাজার। ফল থেকে মুদিখানা, পোশাক থেকে জুতো, মেয়েদের সাজসজ্জার প্রতিষ্ঠানে ঠাসা ভিড় ক্রেতাদের। বুধবার দুপুরের পর বিভিন্ন বাজারে ভিড়ের ছবি ধরা পড়েছে। এর জেরে কিছু রাস্তায় তীব্র যানজট হয়। তবে সব দেখে খুশি ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বাজার ধরতে কার্যত ছাড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
ঈদ সামনেই। এজন্য শিলিগুড়ি শহরের সফদর হাসমি চকে অস্থায়ী বাজার শুরু হয়েছে। বাঁশ, কাঠ, ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বেশকিছু দোকান। সেখানে সিমুই, লাচ্ছা, খেজুর, আখরোট প্রভৃতি মিলছে। পাশাপাশি, জামা, জুতো, সাজসজ্জার স্টলও রয়েছে।
বুধবার সফদর হাসমি চকে কেনাকাটার ফাঁকে গৃহবধূ মামণি খাতুন বলেন, ঈদ আমাদের কাছে বড় উৎসব। তাই ইফতার পার্টির জন্য কিছু ফল কিনছি। বাড়ির ছেলেমেয়েদের জন্য পোশাক, মেহেন্দি, আতর প্রভৃতি কিনছি। আর এক শিক্ষক মহম্মদ কবিরুল বললেন, এখন আবহাওয়া কিছুটা ভালো। তাই ঈদের কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছি। বৃহত্তর শিলিগুড়ি খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়মুহুরির কথায়, কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বাজার মন্দা ছিল। গত রবিবার থেকে ঈদের ব্যবসা ভালোমতো শুরু হয়েছে। বাজারে ক্রেতারা আসছেন। তবে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে থেকে এবার এখানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম।
এদিকে, সামনেই বাংলা নববর্ষ। এজন্য চৈত্র সেল শুরু হয়েছে। শহরের বিধানমার্কেট, এনজেপি স্টেশন বাজার, হিলকার্ট রোড বাজার, হকার্স কর্নার, এসজেডিএ মার্কেট সহ সেভক রোড, বর্ধমান রোড ও সিটি সেন্টারের বিভিন্ন শপিংমলে চলছে বিশেষ সেল। প্রতিটি বাজারেই এখন ভিড়ে জমজমাট। গৃহবধূ সঞ্চিতা সাহা বলেন, সামনেই এক আত্মীয়র বিয়ে। তাই সেলে ওই আত্মীয়র জন্য উপহার কিনছি। পাশাপাশি, গরমের মরশুমের জন্য সেলে নিজেদের পোশাকও নিয়েছি।
হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনৎ ভৌমিক বলেন, ঈদ ও চৈত্র সেল নিয়ে বাজার জমজমাট। ব্যবসা ভালোই হচ্ছে।
ঈদের আগে এদিন কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে ছিল জমজমাট ভিড়। শহর ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ বাজারে ভিড় জমান। শুধু ভাবানীগঞ্জ নয়, জেলার দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ ও মেখলিগঞ্জ শহরের বাজারগুলিও ছিল জমজমাট। সুতির কাপড়, পুরুষদের টি-শার্ট, জুতো সহ বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদা ভালোই ছিল।
জলপাইগুড়ির কদমতলা, দিনবাজার, ডিবিসি রোড, মার্চেন্ট রোডে দুপুরের পর থেকে ব্যাপক ভিড়। সন্ধ্যায় পা রাখা যাচ্ছে না। চৈত্র সেলের পাশাপাশি ঈদের বাজারের জন্য শহরের ওই সমস্ত বাজারের রাস্তায় দুপুরের পর থেকে বাড়ছে ভিড়। বিশেষ করে জামাকাপড়, চটি-জুতো এবং সেমইয়ের দোকানে ভিড় করছে লোকজন। আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন বাজারের ছবিটাও ছিল একই রকম। এখানে অবশ্য চৈত্র সেলের বাজার রমরমা বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলা চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে।