Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুবাইয়ে ডেরা বেঁধে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা বর্ধমানের যুবকের, দিল্লি থেকে পাকড়াও

বাড়ি বর্ধমান থানার শহর লাগোয়া মির্জাপুর এলাকায়। প্রতারণা করতে ডেরা বেঁধেছিল দুবাইয়ে। সেখানে বসেই এদেশের যুবক-যুবতীদের টার্গেট করত লাভজত সিং।

দুবাইয়ে ডেরা বেঁধে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা বর্ধমানের যুবকের, দিল্লি থেকে পাকড়াও
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাড়ি বর্ধমান থানার শহর লাগোয়া মির্জাপুর এলাকায়। প্রতারণা করতে ডেরা বেঁধেছিল দুবাইয়ে। সেখানে বসেই এদেশের যুবক-যুবতীদের টার্গেট করত লাভজত সিং। মোবাইল গেমিং অ্যাপসের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত সে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সে দিল্লির কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতায়। এরপরই ওই রাজ্যের পুলিস তদন্ত নেমে তাকে দিল্লি থেকেই পাকড়াও করে। তার প্রতারণার শিকার হয়েছে এ রাজ্যের বহু যুবক-যুবতীও।

Advertisement

এক পুলিস আধিকারিক জানান, গেমিং অ্যাপসের মাধ্যমে সে বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিত। এই ধরনের অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। ওই প্রতারক সেসব তথ্য নিয়েই অ্যাকাউন্ট সাফ করত। এছাড়া ভুয়ো গেমিং অ্যাপস তৈরি করেও প্রতারণা করেছে অভিযুক্ত। বেশিরভাগ সময় সে দুবাইয়ে থাকলেও  মাঝেমধ্যে দিল্লি বা কলকাতায় আসত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার তাকে এ রাজ্যে আনা হয়। আপাতত পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিস তাকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এদিন রাতেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিস। 
জেলা পুলিসের আরেক আধিকারিক জানান, লাভজত অন্যের ই-ওয়ালেটে প্রতারণার টাকা পাঠাত। এভাবে সে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ভিন দেশের বাসিন্দারাও তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে ধৃতকে জেরায় জেনেছেন তদন্তকারীরা। পুলিস আগেই তার মোবাইল সহ বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। গেমিং অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতরণার টাকা সে বিদেশেও পাঠিয়েছে। প্রতারণার স্বার্থে সে ভিন দেশে  রীতিমতো একটি কোম্পানি খুলে বসেছিল। তার অধীনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করত। তাদের বেশিরভাগই বিদেশি। ভারতেরও কয়েকজন রয়েছে। তাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মির্জাপুর এলাকার বাড়িতে লাভজতের পরিবারের লোকজন থাকেন। তবে সে বেশিরভাগ সময় বিদেশেই থাকত। এলাকার লোকজনদের সঙ্গে তার খুব বেশি মেলামেশা ছিল না।  ধৃতের বাবা-মা পুলিসকে জানিয়েছেন, ছেলে বিদেশে একটি  সংস্থায় 
কাজ করে বলেই জানিয়েছিল তাঁদের। তিন-চার মাস পরপর বাড়ি আসত। বাড়িতে এসেও মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়েই ব্যস্ত থাকত সে। আপাতত ভাতার এবং সাইবার থানার পুলিস আধিকারিকরা তার থেকে বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। পরে অন্য রাজ্যের পুলিস তাকে হেফাজতে নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ