মুম্বই: ক্রমাগত হারে বিধ্বস্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। জয়ে ফিরতে বুমরাহ-মন্ত্র জপছে বাণিজ্যনগরীর দলটি। চোট সারিয়ে শনিবার রাতে মুম্বই শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। রবিবার নেটে বোলিংও করেন তারকা পেসার। যা আভাস, তাতে সোমবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে। প্রধান কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসলে এখনও পর্যন্ত চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে মুম্বই। মরিয়া হয়ে তাই বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স থেকে ফেরা মাত্রই বুমরাহকে খেলাতে চাইছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এমনিতে এই ম্যাচ চিহ্নিত হয় রোহিত শর্মা বনাম বিরাট কোহলির দ্বৈরথ হিসেবে। তবে সোমবার ওয়াংখেড়ের আবহ কিছুটা অন্যরকম। নেটে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় শুক্রবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে খেলেননি রোহিত। আরসিবি’র বিরুদ্ধে খেলবেন কিনা, সেটাও নিশ্চিত নয়। তাছাড়া তিনি ফর্মেও নেই একেবারে। তিন ইনিংসে ৭ গড়ে হিটম্যানের সংগ্রহ ২১। কোহলিও শুরুটা ভালো করে ক্রমশ ম্রিয়মাণ। তিন ইনিংসে ৪৮.৫ গড়ে তাঁর ব্যাটে এসেছে ৯৭। এরমধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধেই ৫৯ রানে নট আউট ছিলেন। পরের দুই ইনিংসে ভিকে করেন যথাক্রমে ৩১ ও ৭। দুই ওপেনারের কাছেই এই ম্যাচ নিছক মর্যাদার লড়াই নয়, ছন্দে ফেরার মঞ্চও। আর তাই কোহলি বনাম বুমরাহর টক্কর নিয়েই আগ্রহ বাড়ছে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, উভয় দলই অবশ্য শেষ ম্যাচ হেরেছে। তবে বাণিজ্যনগরীর দলটির অবস্থা রীতিমতো সঙ্গীন। হার্দিক পান্ডিয়ার দলের ব্যাটিং একেবারেই জমাট বাঁধছে না। শুধু রোহিত একা নন, ছন্দে নেই তিলক ভার্মাও। লখনউয়ের বিরুদ্ধে তো তাঁকে রিটায়ার্ড আউট পর্যন্ত করাতে হয়েছে। তবে তাতেও জেতা যায়নি। ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র সূর্যকুমার যাদবকে দেখা যাচ্ছে ফর্মে। এখনও পর্যন্ত ১৭৭ রান করেছেন তিনি। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ‘স্কাই’-এর হাফ-সেঞ্চুরি জেতার আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অধিনায়ক হার্দিক একা পড়ে যান শেষদিকে। অবশ্য বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বোলিং নিয়ে হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় বুমরাহর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতভাবেই শিবিরে অক্সিজেন জোগাবে।
আটে থাকা মুম্বইয়ের (চার ম্যাচে ২ পয়েন্ট) তুলনায় দু’নম্বরে অবস্থিত আরসিবিকে (তিন ম্যাচ ৪ পয়েন্ট) অনেকটাই গোছানো লাগছে। ওপেনিংয়ে ফিল সল্ট আক্রমণাত্মক শুরু করছেন। ক্যাপ্টেন রজত পাতিদারও মিডল অর্ডারে ঝড় তুলছেন। দেড়শোর উপর স্ট্রাইকরেট তাঁর। লিয়াম লিভিংস্টোন, টিম ডেভিড, দেবদূত পাদিক্কাল, জিতেশ শর্মা, ক্রুণাল পান্ডিয়া— ব্যাটিং গভীরতা যথেষ্ট। আরসিবি’র পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জস হ্যাজলউড। ভুবনেশ্বর কুমারের উপস্থিতি যোগ করছে অভিজ্ঞতা। আছেন বাঁ-হাতি যশ দয়ালও। স্পিন বিভাগে ক্রুণাল ছাড়াও রয়েছেন সুয়াশ শর্মা। দরকারে হাত ঘোরান লিভিংস্টোনও।