নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ইনসাফ ব্রিগেডের ‘ক্রাউড পুলার’ নেতা-নেত্রীরা এদিন ময়দানে কর্মী-সমর্থক বেষ্টিত হয়েই রইলেন। মঞ্চ থেকে বহু দূরে ডিওয়াইএফের স্টলের বাইরে দাঁড়িয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। আর মঞ্চের পিছনে সৃজন ভট্টাচার্য আসতেই ছেঁকে ধরলেন একদল। বক্তা তালিকায় কারা? গ্রামবাংলা থেকে আগত অনেকেই জানেন না। শুধুই বলছিলেন, ‘মীনাক্ষীর বক্তব্য শুনব।’ কিন্তু মীনাক্ষী তো নেই। তারপরের কথা, ‘সেলিমদার বক্তব্য শুনব।’ কিন্তু সবকিছুই ভেসে গেল ‘বন্যা’য়।
ব্রিগেডের সভার সমাপ্তি ঘোষণা করলেন সিটু রাজ্য সভাপতি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তারপর থেকেই আলোচনা, সেরা বক্তা কে? উত্তর ২৪ পরগনার একদল বামকর্মীর কথায়, ‘সকলের বক্তব্যই তো শুনেছি। তবে বন্যা অসাধারণ!’
মঞ্চে উঠেই বন্যা প্রথমে ছোটদের ভালোবাসা ও বড়দের প্রণাম জানান। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা সকলে ভালো তো?’ প্রত্যুত্তরে ‘হ্যাঁ’ শব্দটিই ভেসে এসেছে। তারপরই বন্যা বললেন, ‘না আপনারা কিন্তু ভালো নেই। দু’টো সরকার চলছে—একটা চোরের আর একটা ডাকাতের।’ তাঁর কথায় উঠে এল গ্রামের শ্রমিকদের ভাতের কথা, জমির কথা। তিনি বললেন, ‘ব্রিগেডে বক্তব্য শুনে চলে গেলে হবে না। বুথে লড়াই করতে হবে। কীসের ভয়? আমরা ভয় পাব কেন? আমরা চুরি করিনি।’
বন্যার কথা বললেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। বাংলা ও আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে চলল ভাষণ। সমাবেশে আগত কর্মী-সমর্থকরা যেন এরকম বিদ্যুতের অপেক্ষাতেই ছিলেন। পাশের কমরেডকে কেউ বলে উঠলেন, ‘আরে, এঁর কথাই তো বলছিলাম। দাদপুরে ঝান্ডা হাতে এঁর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।’ একদা গুড়াপের পঞ্চায়েত প্রধান এই নেত্রীকে দেখে উজ্জীবিত হলেন বাম-কর্মী সমর্থকরা। ফেরার পথে ক্লান্ত হয়ে ময়দানের ধারে ছায়ায় বসে ছিলেন একদল মহিলা কর্মী-সমর্থক। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য একজন বলে গেলেন, ‘বন্যাকে দেখেও এনার্জি পাচ্ছেন না? চলুন।’ উল্লেখ করার মতো ঘটনা হল, সভা শেষে ঝাঁটা হাতে ব্রিগেডের মাঠও পরিষ্কার করেন বন্যা।