ওয়াশিংটন: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ ‘বন্ধু’ হিসেবেই পরিচিত এলন মাস্ক। বুধবার রাতে আচমকা মার্কিন প্রশাসনের হাত ছাড়লেন এই ধনকুবের। সরকারি পদে মাস্কের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের পদে ইস্তফা দিলেন তিনি। টেসলা কর্তার এই সিদ্ধান্তের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার ট্রাম্পের অনুমোদিত বিলের নিন্দায় সরব হন মাস্ক। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই সরকারি পদ ছাড়লেন তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই কি মাস্কের এই সিদ্ধান্ত?
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই মাস্ককে বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করেন ট্রাম্প। ‘বন্ধু’র জন্য আলাদা দপ্তরও তৈরি করে দেন। যার নাম ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই)। মাস্কের এই দপ্তরের কাজ ছিল সরকারের ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যয় কমানো। সূত্রের খবর, সম্প্রতি প্রশাসনের একাধিক নীতি নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের মতপার্থক্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবার যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন শুল্ক ও অভিবাসন সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিলটিকে ‘বড় ও সুন্দর’ আখ্যাও দেন তিনি। সেই বিলের নিন্দা করে মাস্ক বলেন, এর জেরে খরচ আরও বাড়বে। কটাক্ষের সুরে টেসলা কর্তা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিল সুন্দর বা বড় হতেই পারে। তবে দু’টো একসঙ্গে হওয়া সম্ভব নয়।’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, জটিল সমঝোতার ফসল এই বিল। পুনর্বিবেচনার আভাস দিয়ে বলেন, ‘এই বিলের কয়েকটি দিক নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। তবে বাকি দিকগুলি নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। দেখা যাক কী হয়।’ বিল নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন মার্কিন ধনকুবের। বুধবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে মাস্ক লেখেন, ‘বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ মাস্ক ঘনিষ্ঠদের একাংশের দাবি, নিজের ব্যবসায় মনোনিবেশ করতেই এই সিদ্ধান্ত। ২২ এপ্রিল কোম্পানির কনফারেন্স কলে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্ক। -ফাইল চিত্র