


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিক খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন খান এখনও পলাতক। কিন্তু এলাকা জুড়ে যত না তার দাপটের গল্প, তার চেয়ে বেশি এখন চর্চায় ‘ইমেজ’ ভাঙার কাহিনী। দুষ্কৃতী মহলে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে হারুন নিজেকে বলিউডি গ্যাংস্টার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করত। শাকরেদদের কাছে সে ছিল সিনেমার ‘সুলতান মির্জা’ কিংবা ‘ধুরন্ধর’- এক দাপুটে ভাই। কিন্তু খুনের ঘটনার পর সেই হারুনই এখন নিজের অনুগামীদের চোখে ‘বুজদিল’। এই পর্বেই শুক্রবার খুনের ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাব বিস্তারে সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করেছিল হারুন। রিলস বানিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরত সে। শাসক দলের স্থানীয় নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে বিধায়কের অনুষ্ঠান- নানা জায়গায় উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও পোস্ট করত নিয়মিত। কখনও রাস্তায় নেতাদের পাশে হাঁটার দৃশ্য, কখনও রাজনৈতিক থিম সং জুড়ে ‘পাওয়ার’ প্রদর্শন— এসব দেখেই আকৃষ্ট হত উঠতি বয়সি ছেলেরা। অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকার নাবালক ও কমবয়সি ছেলেদের এভাবেই নিজের গ্যাংয়ে টানত হারুন। গোয়েন্দাদের দাবি, ছিঁচকে চুরি বা পকেটমারিতে জড়িত কিশোরদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিত সে। রিলস বানানো কিংবা এলাকায় দাপট দেখানোর জন্য শাগরেদদের পিস্তল দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। উত্তর হাওড়ায় এলাকা দখল ও হুমকি দেওয়ার কাজে এই কমবয়সীদেরই ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল হারুনের।
খুনের ঘটনার পর হারুন ও তার সহযোগী রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত গা ঢাকা দিতেই অধিকাংশ শাগরেদও লুকিয়ে পড়েছে। তবে কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই বসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। ভাইজানের সঙ্গে ছায়ার মতো ঘোরা কয়েকজন লিখেছে, ‘পেছন থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেলি! নিজেকে সুলতান মির্জা ভাবতিস, আসলে তুই ডরপোক।’ পুলিশের একাংশের মতে, হারুনের প্রভাব কিছুটা কমলেও, পরিস্থিতি মোটেই স্বস্তির নয়। তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এই কমবয়সিদের এখন দলে টানতে সক্রিয় অন্য গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা। ফলে উত্তর হাওড়ায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য আরও বাড়ার আশঙ্কাই দেখছেন তদন্তকারীরা।