Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গণতন্ত্রের কালো দিন, ক্ষুব্ধ মমতা, তোপ অভিষেকেরও

লোকসভায় নয়া সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেছে মোদি সরকার। তার প্রতিবাদে বুধবার গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গণতন্ত্রের কালো দিন, ক্ষুব্ধ মমতা, তোপ অভিষেকেরও
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভায় নয়া সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেছে মোদি সরকার। তার প্রতিবাদে বুধবার গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি ও হিটলারের শাসনকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সরাসরি আক্রমণ শানালেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিখলেন, ‘কালো দিন, কালো বিল! এই বিল প্রমাণ করছে দেশে ‘সুপার’ জরুরি অবস্থা চলছে। ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। একনায়কতন্ত্র কায়েমের আরও একটি পদক্ষেপ এই বিল।’ শুধু মমতা নন, কলকাতায় বসে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘বিচার ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, মাত্র ২৪০ জন সাংসদকে নিয়ে গণতন্ত্রকে বুলডোজ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এই বিল কোনও দিন পাস হবে না!’

Advertisement

মঙ্গলবার রাত থেকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেন্দ্রের তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পেশ করা এই বিলের টার্গেট যে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী-অন্য মন্ত্রীরা, তা কার্যত স্পষ্ট। কংগ্রেস, তৃণমূল, আপের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইডি, সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের জেলে পাঠানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা। চোখা চোখা শব্দে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন,  ‘এই বিলে আদালতের ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে। এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার শামিল। গণতন্ত্রের উপর হিটলারি আঘাত। এক ব্যক্তি, এক দল, এক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই এর মূল লক্ষ্য। ইডি, সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা চলছে।’ 
বিল পেশের সময় লোকসভায় প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিলেন তৃণমূল এমপিরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর সময় দলের মহিলা সাংসদদের হেনস্তা করা হয়েছে। ২০ জন মার্শালকে নিয়ে কাপুরুষের মতো বিল পেশ করতে হয়েছে অমিত শাহকে। মোদি সরকারের ২৮ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ১৯ জনের নামে খুন, অপহরণ, ধর্ষণের অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। কেন্দ্রের কাছে অভিষেকের শর্ত— পদ ছাড়ার সময়সীমা ৩০ নয়, ১৫ দিন করুন। কিন্তু যাঁরা তদন্ত করবেন, তাঁরা দোষ প্রমাণ করতে না পারলে দ্বিগুণ সময় জেল খাটবেন, সেটাও জানানো হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ