রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: একুশের বিধানসভা, চব্বিশের লোকসভায় বাংলায় আশাভঙ্গ হয়েছে বিজেপির। এবার তাই ২৬’এর বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। তাই হারের হ্যাটট্রিক ঠেকাতে মরিয়া হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে ধর্মীয় উস্কানি ছড়ানোর রাস্তা বেছে নিয়েছে তারা! অন্তত তেমনটাই দাবি তৃণমূলের। বাংলাকে অশান্ত করার ছক কষছে বিজেপি—এই বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে। বলা হচ্ছে, সজাগ ও সতর্ক থেকে ভুয়ো প্রোফাইলগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে। ফেক ভিডিও, ছবি কিংবা উস্কানিমূলক মন্তব্য চোখে পড়লেই তা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনতে হবে এবং সেইসঙ্গে দ্বারস্থ হতে হবে পুলিস-প্রশাসনের।
বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেল গত প্রায় এক দশক ধরেই বেশ সক্রিয়। বিশেষত বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে এই সেলের সক্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। বাংলাও ব্যতিক্রম নয়। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাতের ঘটনাকে ইতিমধ্যেই বারবার বাংলার বলে দেখানো হয়েছে বলে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ফেক ভিডিওর আশ্রয় নিয়ে বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাছাড়া ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে সন্দেশখালি ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। নারীর সম্মানকে ‘পুঁজি’ করে সন্দেশখালিতে গেরুয়া শিবিরের ‘গেম প্ল্যান’ সামনে চলে আসে গোপন ক্যামেরায় তোলা বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়ালের বক্তব্যে। এমনকী অভিযোগ উঠেছিল, সাদা কাগজে সই করিয়ে ধর্ষণের মামলা সাজিয়েছিল বিজেপি। এরপর আর জি কর পর্বে ‘আমি সোমা বলছি’ নামে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে রোমহর্ষক অডিও বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
আর এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ধর্মীয় বিভাজনই যে বিজেপির অন্যতম এজেন্ডা, তা ধরা পড়েছে তৃণমূলের অর্ন্ততদন্তে। সেখানে তৃণমূলের নজরে এসেছে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির ফেক প্রোফাইল। অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নামে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে হিন্দু বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য পোস্ট করা হচ্ছে ওই প্রোফাইলগুলি থেকে। ‘দেখে নেব’, ‘এলাকায় থাকতে দেব না’, এমন নানা ধরনের মন্তব্য করা পোস্টগুলি তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া এবং আইটি টিমের নজরে এসেছে। ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘রহমান, খান, মোল্লা ইত্যাদি নানা নামে ফেক প্রোফাইল বানাচ্ছে বিজেপি। ওই প্রোফাইলগুলি থেকে হিন্দু বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে ক্রমাগত। আবার ওই প্রোফাইলের ব্যক্তিরা বিভিন্ন কমেন্ট বক্সে গিয়েও নানা ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ছড়াচ্ছেন। আমাদের নজরে এসেছে, লোকসভা ভোটের সময় বিজেপির হয়ে প্রচার চালানো বিভিন্ন ব্যক্তি এখন নাম পাল্টে সমাজে ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দু’টি প্রোফাইল বন্ধ করা হয়েছে।’ তৃণমূলের অভিযোগ, যেহেতু ছাব্বিশ সালের বিধানসভা ভোট বিজেপির কাছে অগ্নিপরীক্ষা, তাই আরও বেশি টাকা খরচ করে বাংলার বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতি করবে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের শঙ্কা, ভোট যত এগিয়ে আসবে, ধর্মীয় অশান্তির উস্কানি ততই বাড়বে। বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা হবে। ভোটে লাগাতার ভরাডুবির পর এটাই শেষ অঙ্ক বিজেপির।
তৃণমূলের আনা এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘ফেক প্রোফাইল বিজেপি তৈরি করছে না। এটা তৃণমূলেরই কাজ। হিন্দু-মুসলমানকে ভাঙার বা বিভাজনের রাজনীতি তৃণমূলের। আমরা মনে করি, ভারতবর্ষে যাঁরা বসবার করেন, তাঁরা সবাই ভারতীয়। সেই অর্থে তাঁরা হিন্দু। এই হিন্দু শব্দের অপব্যাখ্যা হচ্ছে।’