


চেন্নাই: তামিলনাড়ু বিধানসভার নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিনেই অভিনেতা বিজয়ের এনডিএতে যোগদানের জল্পনা জোরদার হল। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্তরি কাজাগমকে (টিভিকে) এনডিএতে শামিল করতে জোড় তৎপর বিজেপি। জিতলে বিজয়কে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার টোপও দিয়েছে গেরুয়া শিবির। শুধু তাই নয়, ২৩৪ আসনের বিধানসভায় টিভিকে-কে ৮০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এনডিএ-তে যোগদানের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন টিভিকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সি টি আর নির্মল কুমার। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি টিভিকের আদর্শগত শত্রু। তাই বিজেপির সঙ্গে টিভিকের জোটের সম্ভাবনা নেই। বিজয়ের সঙ্গে কোনো জোট হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন এআইএডিএমকে সাধারণ সম্পাদক পালানিস্বামী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এডিএমকে’র নেতৃত্বেই ভোটে লড়বে এনডিএ। সেই জোটে শামিল হওয়ার জন্য টিভিকের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।
কয়েকদিন আগেও টিভিকে নিয়ে এরকমই একটি জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন নির্মল। সেবার তিনি বলেছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যম এবং সমাজ মাধ্যমে জল্পনার ভিত্তিতে টিভিকে-কে নিয়ে নানা খবর ছড়ানো হচ্ছে। জনগনের ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এমনটা করা হচ্ছে।’ তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, জল্পনার উপর ভিত্তি করে খবরে বিশ্বাস না করে দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কর্মীদের।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, এনডিএ তে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বিজয়ের সঙ্গে বিজেপির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। তবে বিজয় এখনো মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি চাইছেন। আর সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, কৌশলগত কারণেই বিজয়কে এনডিএ-তে শামিল করতে চাইছে বিজেপি। ঐতিহাসিকভাবেই তামিলনাড়ুতে বহু আসনে কম মার্জিনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। সারা রাজ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে বিজয়ের ফ্যান বেস। বিজেপির আশা, সেই ভক্তকুলের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে এই আসনগুলি এনডিএ-র অনুকূলে আসবে। তাই বিজয়ের সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলতে সচেষ্ট ছিল বিজেপি। এই অবস্থায় প্রতিবেশী রাজ্যের এক উপ মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আলোচনার দরজা খোলে। তবে সেই উপ মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া, নতুন দল গড়ে দ্রাবিড়ভূমে ভালোই সাড়া ফেলে দিয়েছেন থলাপতি। সেই সমর্থনও জোটের জয়ে কাজে আসবে বলে মনে করছে বিজেপি।
বিজয়ের দলের পক্ষ থেকে মূল আপত্তির জায়গা এর স্বতন্ত্র পরিচিতি। মূল ধারার রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধদেরই প্রথম থেকে টার্গেট করেছে বিজয়ের দল। নবীন প্রজন্মের মধ্যে দলের সমর্থন ভিত্তি গড়ে উঠেছে। বিজয়ের উপদেষ্টাদের মতে, এনডিএ-তে শামিল হলে নতুন দল হিসেবে টিভিকে-র স্বাধীন ভাবমূর্তিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এদিকে, রবিবারই কারুরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় দিল্লিতে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেন বিজয়। এই মামলায় এটা তাঁর তৃতীয় হাজিরা। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি সিবিআই সদর দপ্তরে যান।