Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

নির্বাচনের পর ফের ভোলবদল করতে পারেন নীতীশ, জল্পনায় শঙ্কিত বিজেপি

নীতীশ কুমার দুর্বল হয়ে গিয়েছেন। তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক নেই। কখনও তিনি লালুপ্রসাদ যাদবের দলের উপর নির্ভরশীল। কখনও আবার বিজেপির সঙ্গে জোট গড়েন।

নির্বাচনের পর ফের ভোলবদল করতে পারেন নীতীশ, জল্পনায় শঙ্কিত বিজেপি
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নীতীশ কুমার দুর্বল হয়ে গিয়েছেন। তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক নেই। কখনও তিনি লালুপ্রসাদ যাদবের দলের উপর নির্ভরশীল। কখনও আবার বিজেপির সঙ্গে জোট গড়েন। এভাবইে ২০০৫ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন। ন’মাসের জন্য একবার জিতনরাম মাঝি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। আবার ফিরেছেন নীতীশ কুমার। তবে এবার তাঁর ইনিংস সমাপ্তির পথে। সেই কারণেই বিজেপিও ক্রমেই তাঁর গুরুত্ব কমিয়ে দেবে ভবিষ্যতে। এই হল পরিচিত রাজনৈতিক চর্চা। কিন্তু বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমারের গুরুত্বের অবসান হয়েছে এবং এখনই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্তিম ক্ষণ এসেছে বলে যারা মনে করছে, তাদের ভুল প্রমাণ করে দিতে পারেন স্বয়ং জেডিইউ সুপ্রিমোই। বিহারের ভোটপর্বে এই আলোচনাই সবথেকে জোরালো হয়ে উঠছে। অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কে হবেন এনডিএ জোটের মুখ্যমন্ত্রী? অমিত শাহ সরাসরি উত্তর দেননি। যা নিয়ে বিরোধীরাও কটাক্ষ করেছে। নীতীশ কুমারের দলও ক্ষুব্ধ। তাই প্রবল চর্চা চলছে যে, নীতীশ এত সহজে অস্তমিত হবেন না। ভোটের ফলাফলের পর তিনি ফের চমক দিতে পারেন। ভোলবদল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বিজেপিও এ নিয়ে শঙ্কিত। 

Advertisement

নীতীশ কুমারের অন্যতম  বড় শক্তি হল তাঁর প্রতি আজও অনুগত লব-কুশ জাতিগোষ্ঠী। বিহারের কুর্মি এবং কৈরী জাতিগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় বলা হয় লব-কুশ। বিহারের সবথেকে বড় জাতিগোষ্ঠী হল যাদব।  লালুপ্রসাদ যাদবের এই ভোটব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে সর্বাগ্রে নয়ের দশকে এককাট্টা হয়েছিল এই দুই ওবিসি গোষ্ঠী। অর্থাৎ, নন-যাদব ওবিসি যে ভোটব্যাঙ্কের উপর বিজেপি ভরসা করে থাকে, তার মধ্যে এই অংশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১২ শতাংশ জনসংখ্যা বিহারে এই লব-কুশ গোষ্ঠীর। যারা বিহারের বড় অংশে ছড়িয়ে রয়েছে। পাটনা, নালন্দা, মুঙ্গের, বাঁকা, খাগাড়িয়া, সমস্তিপুর, পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, ভোজপুর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কুর্মি ও কৈরী জাতি। অমিত শাহ নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা না করায় এই লব-কুশ গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ। 
বিহারে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক সীমিত। সেই কারণে আজ পর্যন্ত বিজেপি এককভাবে কোনওদিন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এমনকি ১০০ আসনেও পৌঁছোতে পারেনি। এবারও পারবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করে না। এমতাবস্থায় একদিকে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা না করা এবং অন্যদিকে তাঁর বড় সমালোচক চিরাগ পাসোয়ানকে অতিরিক্ত তুষ্ট করার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ জেডিইউ। সুতরাং ভোটের পর রাজ্যে ও কেন্দ্রেবিজেপিকে বড় ধাক্কা নীতীশ কুমার দেবেন না তো? জল্পনা তুঙ্গে। 

সম্পর্কিত সংবাদ