Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুলডোজার চালিয়ে ‘সন্ত্রাসের সংস্কৃতি’ ফেরাতে চায় বিজেপি, তোপ তৃণমূলের

হাবড়ায় ভোটের ময়দান সরগরম ‘সংস্কৃতি’ নিয়ে! তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এলাকায় বাম আমলের ‘সন্ত্রাসের সংস্কৃতি’ ফেরাতে চাইছে।

বুলডোজার চালিয়ে ‘সন্ত্রাসের সংস্কৃতি’ ফেরাতে চায় বিজেপি, তোপ তৃণমূলের
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাবড়ায় ভোটের ময়দান সরগরম ‘সংস্কৃতি’ নিয়ে! তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এলাকায় বাম আমলের ‘সন্ত্রাসের সংস্কৃতি’ ফেরাতে চাইছে। গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ উড়িয়ে পালটা দাবি করছে, তৃণমূলই হাবড়ায় ‘অপসংস্কৃতির জনক’। আর এই চাপানউতোরের মাঝে সিপিএমের কটাক্ষ, দুই ফুলকে ভোট দেওয়া মানে ‘এপ্রিল ফুল’ হওয়া। এই আবহে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোট যত এগচ্ছে, ‘সংস্কৃতি’-কে হাতিয়ার করার প্রবণতা ততই পরিলক্ষিত হচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। 

Advertisement

একসময় ডাকাতি সহ নানা অপরাধে শিরোনামে থাকা হাবড়ার অতীত যেন আর না ফেরে, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জোর প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, ২০১১ সালের পর হাবড়ায় বড়ো ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমেছে। তাই তৃণমূল ‘সংস্কৃতি’ বলতে বোঝাতে চাইছে, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ। এদিকে, রামনবমী উপলক্ষ্যে ক’দিন আগে হাবড়ায় একটি শোভাযাত্রায় হাজির ছিলেন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল। সেই সময় তিনি বুলডোজারে উঠে প্রচার চালান। এরপর থেকে হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর প্রচারে বারবার এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে তাঁর বক্তব্য, ‘বাম আমলে হাবড়া সন্ত্রাসের কবলে ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমি বিধায়ক হওয়ার পর থেকে এলাকায় সমাজবিরোধী মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে। মানুষ এখন অনেক নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারে।’ সেই সঙ্গে বিজেপির প্রচার পদ্ধতিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘শক্তি প্রদর্শনের নামে এলাকায় ভয় ও আগ্রাসনের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। হাবড়ার মানুষ অপসংস্কৃতি প্রবণ বিজেপিকে হারাবেই।’ 
বিজেপি পালটা অভিযোগ করতে ছাড়েনি। তাদের প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের দাবি, ‘তৃণমূলের আমলেই হাবড়ায় অপসংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। হাবড়ার মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজেই। উনি এবার প্রাক্তন হচ্ছেন।’ বুলডোজার নিয়ে প্রচার প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, ‘বুলডোজার ভয় দেখানোর প্রতীক নয়, বরং দৃঢ় প্রশাসনের বার্তা। তৃণমূলের বুলডোজার নিয়ে এত ভয় কীসের?’ এই আকচাআকচি থেকে দূরে দাঁড়িয়ে সিপিএম তথা বামেরা দু’পক্ষকেই নিশানা করছে। বাম প্রার্থী ঋজিনন্দন বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘তৃণমূল ও বিজেপি এসব নন-ইস্যু তুলে ধরে বাস্তব সমস্যাগুলি আড়াল করতে চাইছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মৌলিক প্রশ্নগুলি আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘দুই ফুলকে ভোট দেওয়া মানে এপ্রিল ফুল হওয়া।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘সংস্কৃতি’ নিয়ে হাবড়ায় এই লড়াই আসলে প্রতীকী। আসলে ভোটযুদ্ধে বিপক্ষ শিবিরকে কোণঠাসা করতে চেষ্টায় খামতি রাখছে না ডান-বাম সব পক্ষ। তবে হাবড়ায় ভোটের লড়াই এখন শুধু প্রার্থী ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ‘সংস্কৃতি’র কথা বলে তিনপক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক জমি মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে অপেক্ষা ৪ মে পর্যন্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ