


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভিন রাজ্য থেকে লোক এনে বাংলায় ভোট করাতে চাইছে বিজেপি—তৃণমূলের এমন অভিযোগ নতুন নয়। এখন আর বিষয়টি কেবল তৃণমূলের অভিযোগ হয়ে রইল না! এবারের নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের এক প্রার্থী বলছেন, ‘ভোট করাবেন উত্তরপ্রদেশের নেতারা।’ মন্তব্যটি করেছেন অশোকনগর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুময় হীরা। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই অশোকনগরে গেরুয়া শিবিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে চলে এসেছে বিজেপির অন্দরের অস্বস্তি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কোনো নির্বাচনি কৌশল নয়। সংগঠন নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীর এহেন ‘স্বীকারোক্তি’ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি তৃণমূল। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অসন্তোষ সামনে এনে পদ্মশিবিরকে ধরাশায়ী করতে চাইছে তারা। সেই সঙ্গে তারা সুময়বাবুর এই মন্তব্যের ‘অ্যাডভান্টেজ’ নিতে ঝাঁপিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র অশোকনগর। এই আসনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে দীর্ঘ আলোচনা চলে। জেলা থেকে রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। শেষমেষ ডাঃ সুময় হীরার নাম ঘোষণা করে পদ্মপার্টি। নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশ। সুময়বাবুর রাজনৈতিক অতীত তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত। তিনি দু’বার তৃণমূলের কাউন্সিলার ছিলেন। গত বিধানসভা ভোটে নির্দল হিসাবে লড়েছিলেন। তাই শুরু থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিজেপির মধ্যে। দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের উপেক্ষা করে ‘বহিরাগত’ মুখকে তুলে আনা আসলে সংগঠনের ভিত দুর্বল করার নামান্তর। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ‘উত্তরপ্রদেশের নেতারা ভোট করাবেন’ মন্তব্যে কার্যত আগুনে ঘি পড়েছে। বুথ থেকে মণ্ডল—বিজেপির বহু কর্মী অসন্তোষ চেপে রাখতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘আমরা কি শুধু পোস্টার সাঁটার জন্য? ভোটের সময় বাইরে থেকে লোক এনে সব দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে!’ যোগীরাজ্যের নেতাদের উপর ভরসা রাখার বার্তা ‘অপমানজনক’ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বিজেপি প্রার্থী সুময় হীরা বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের নেতারা তো এলাকায় আছেন। ভোট প্রক্রিয়ার জন্য ওঁরা থাকবেন। পাশাপাশি নির্বাচনি কমিটি তৈরি করে দ্রুত প্রচার শুরু হবে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।’ তাঁর অতীত রাজনৈতিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন রেখে দেন। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘বিজেপি ভোটের আগেই হেরে গিয়েছে। নিজেদের ক্ষমতা নেই ভোট করানোর। তাই লোক আনতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। বহিরাগত দিয়ে ভোটের নামে উস্কানি দেবে। এটাই ওদের প্ল্যান। ওদের ক্ষুব্ধ কর্মীরা আমাদের সঙ্গে তলেতলে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ক’দিন পরেই দেখবেন, অশোকনগরে বিজেপির হাল কী হয়।’