


সংবাদদাতা, বজবজ: যে ক্ষোভের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছিল, মঙ্গলবার সকালে সেটাই তীব্র জনরোষ হয়ে আছড়ে পড়ল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের পার্টি অফিসে। কোনো বাধা ছাড়াই বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর চালাল ফলতার বেলসিংহ গ্রামে অবস্থিত জাহাঙ্গিরের বিলাসবহুল পার্টি অফিসে। কারণ, সোমবার রাতেই এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে যান ‘ফলতার ত্রাস’ জাহাঙ্গির। এলাকার মানুষজন বলছেন, এই সেই পার্টি অফিস, যেখানে সাধারণ মানুষকে তুলে এনে ‘থার্ড ডিগ্রি’ দেওয়া হত। ফলতার পুলিশ-প্রশাসন থেকে শুরু করে ১৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার সবাই জাহাঙ্গিরের নামে থরহরিকম্প হয়ে থাকত। তবে সোমবার ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ফলতাবাসী মুখ খুলতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় টের পেয়েই চম্পট দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে দেন তিনি। রাতে খবর পান, ফলতার বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক হাজার মানুষ তাঁর দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসছে জবাব চাইতে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়িতে ডায়মন্ডহারবারের দিকে চলে যান তিনি। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তছনছ করে দেওয়া হয় চেয়ার, টেবিল, মমতা-অভিষেকের ছবি। ফতেপুর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বেলসিংহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছুটা আগে রাস্তার উপর জাহাঙ্গিরের ওই কার্যালয়। মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেল, লোহার বিশাল গেট খোলা রয়েছে। চারপাশ নিস্তব্ধ। ভাঙচুরের এক প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, দেড় বিঘার উপর এই বিলাসবহুল দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে দুটি এসি আছে। একটি ঘর রয়েছে অতিথিদের জন্য। আর একটি ঘরে মানুষকে ধরে এনে অত্যাচার করা হত। অন্য একটি ঘরে বসতেন জাহাঙ্গির। সেই ঘর বন্ধ রয়েছে। তবে বাইরে ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট। একজন বললেন, ‘মা-মাটি-মানুষের উপর অত্যাচারের এটাই পরিণতি। এখন জাহাঙ্গিরকে পাওয়া গেলে গণপিটুনির শিকার হয়ে যাবে।’ কার্যালয়ের বাইরে অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন। কিছু দূরে জাহাঙ্গিরের আরও একটি বিলাসবহুল ভবনও ভাঙচুর হয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। অনেকেই জানালেন, ২১ মে ফলতায় ভোট। সেদিন পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করছে। তারপর জাহাঙ্গিরকে আর এলাকায় ঢুকতে দিতে রাজি নন তাঁরা। নিজস্ব চিত্র