বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ২০২১’এ ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ভঙ্গের ময়নাতদন্তে সাংগঠনিক দুর্বলতার সঙ্গেই দলের একাংশের ‘কামিনী-কাঞ্চন’ আসক্তিকেও দায়ী করেছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। এবারও বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলা কমিটি গঠন নিয়ে অন্দরের মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। এখানেও সামনে আসছে ‘কামিনী-কাঞ্চন’ যোগ! পদ্মপার্টির এক মহিলা নেত্রীর সঙ্গে একাধিক নেতার ‘সম্পর্ক’এর অভিযোগ ঘিরে দলের অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই নেত্রীর সঙ্গে এক নেতার ‘ন্যুড চ্যাটের’ স্ক্রিন শট ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, ওই নেতা সহ দলের আরও কয়েকজন ‘ঘনিষ্ঠে’র বদান্যতায় জেলা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন ওই নেত্রী। অথচ বহু যোগ্য লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগও উঠেছে। যদিও জেলা বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব এসব অভিযোগকে আমল দিতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখেন, এসব তাঁদেরই চক্রান্ত। এআই ব্যবহার করে কুৎসা করা হচ্ছে।
উত্তর শহরতলিতে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল নতুন নয়। দমদমে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাঠে বসে মদ্যপান নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। কিন্তু চলতি মাসে নতুন ২৬ জনের জেলা কমিটি ও ৬৯ জনের এগজিকিউটিভ কমিটি গঠন নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মিছিল, সভা ও পদযাত্রায় জেলা ও রাজ্য নেতাদের সঙ্গে সামনে হাঁটা এক নেত্রীর ‘ন্যুড চ্যাট’ এর ভাইরাল ছবি দলের নেতা-কর্মীদের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে। বিজেপি সূত্রে খবর, ওই নেত্রী এক সময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে, এখানেও একাধিক নেতার ‘ঘনিষ্ঠ’ হয়েছেন। পদ্মপার্টি সূত্রে খবর, এহেন একজনকে আবার মহিলা মোর্চার দায়িত্বে আনারও পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি বহু অযোগ্যকে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিতে। অথচ, সাংগঠনিক কাজে সামনের সারিতে থাকা অনেকেই বাদ পড়েছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম পানিহাটির বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ওরফে ভোলা। তিনি পানিহাটির তিনবারের কাউন্সিলার। একসময়ে জেলা যুব তৃণমূল সভাপতিও ছিলেন। গতবারের জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ছিলেন ভোলা। এছাড়াও গতবারের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকা নিতাই শীল, মৃত্যুঞ্জয় পালের মতো বেশ কয়েকজন ঠাঁই পাননি। ইতিমধ্যে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার কাছে ওই ‘ন্যুড-চ্যাটের’ স্ক্রিন শট সহ নানান তথ্য পৌঁছেছে।
বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, পরপর তিন বছর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কিন্তু আগের জেলা কমিটিতে স্থান পাইনি। যখন যাঁকে প্রয়োজন, দল তাঁকে দায়িত্ব দিচ্ছে। পদ না থাকলে, আমি দলের ক্ষতি করব, এই সংস্কৃতি বিজেপির নয়। ‘ন্যুড-চ্যাট’এর স্ক্রিনশট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। জেনেছি, এসব এআই দিয়ে তৈরি করা। যাঁরা এমন করেছেন, তাঁদের জন্য করুণা হচ্ছে!