


দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের রাজাজি টাইগার রিজার্ভ। সংরক্ষিত এলাকা। আর তার মধ্যেই ছেলের বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেছিলেন বিজেপির মন্ত্রী খাজন দাস। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্নের মুখে বনদপ্তরের ভূমিকাও। তারপরই তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তারা। মামলা দায়ের হয়েছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে।
হরিদ্বার রেঞ্জের রাজাজি টাইগার রিজার্ভের মধ্যেই রয়েছে সুরেশ্বরী দেবী মন্দির কমপ্লেক্স। সেখানেই মন্ত্রীর ছেলের বিয়ের আয়োজন চলছিল। তাঁবু, টেবিল, চেয়ার, কুলার, জলের ট্যাঙ্ক—সব চলেও এসেছিল। সম্প্রতি প্রস্তুতির সেই ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই নড়েচড়ে বসে পার্ক কর্তৃপক্ষ। মন্দির কমিটির কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। যদিও মন্ত্রীর দাবি, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁকে অকারণে বদনাম করা হচ্ছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সমস্ত প্রস্তুতি চলছিল। বনদপ্তরের এক সিনিয়র আধিকারিকও সবটা জানতেন। বনদপ্তরের পালটা দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। রাজাজি টাইগার রিজার্ভের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টর রাজীব ধিমানের বক্তব্য, বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত সরঞ্জামও সংরক্ষিত এলাকা থেকে বের করে দিয়েছেন কর্মীরা। বনদপ্তরের আধিকারিককেও শোকজ করা হয়েছে। কীভাবে ওই সামগ্রীগুলি কোর এরিয়ায় প্রবেশ করল, তা তাঁদের জানাতে হবে। কারও কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টাইগার রিজার্ভের ডিরেক্টর।
এদিন দুপুরে ছেলে অনুজ ও কনের পরিবারকে নিয়ে মন্দিরে পৌঁছান মন্ত্রী। সেখানেই ছোটো করে পুজো ও বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তারপরই ফের সুর চড়িয়েছেন খাজন। মন্ত্রী বলেন, মা সুরেশ্বরীর আশীর্বাদেই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠেছিল। তাই তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান মন্দির প্রাঙ্গণে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাঁর সাফাই, সংরক্ষিত এলাকায় এধরনের অনুষ্ঠান করার জন্য যে অনুমতি লাগে, সেকথা তিনি জানতেনই না। তাঁর সংযোজন কয়েকদিন আগেই মন্দিরে এসেছিলাম। পার্কের আধিকারিকরাও ছিলেন। ডিরেক্টরও অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছিলেন। বন আইন সম্পর্কে আমি জানতাম না। বন্যপ্রাণীদেরও বিরক্ত করতে চাইনি। বনদপ্তর আগে এসব জানালে অন্যত্র বিয়ের আয়োজন করতাম।