নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব, যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠল। তাঁরই দলের এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মী শিবশংকর কর্মকার এই মর্মে চুঁচুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রীকে গৌতমবাবু কুপ্রস্তাব দিতেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জেলা সভাপতি আমাকে ২০ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগে ফাঁসিয়েছেন। শিবশংকরবাবু এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন। প্রসঙ্গত, গৌতমবাবু গত ১২ মার্চ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মী শিবশংকরের বিরুদ্ধে টাকা তছরুপ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
অভিযোগ ও পালটা অভিযোগকে ঘিরে চুঁচুড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোট মরশুমে যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাবের মতো বিষয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা শুরু হয়েছে। জেলাস্তরে বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা সম্পর্কে ভয়াবহ অভিযোগ ওঠায় এ নিয়ে ইতিমধ্যেই ভোট রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। তার জেরে বিজেপির নেতা-কর্মী মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। চুঁচুড়ার ১ নম্বর কাপাসডাঙার বাসিন্দা শিবশংকর কর্মকার বলেন, আমি বিজেপির পদাধিকারী ছিলাম। গৌতমবাবু আমাকে ২০২৪ সালে তাঁর বৈদ্যুতিন সামগ্রীর ব্যবসার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। পরে বুঝতে পারি, আমার স্ত্রীকে নিয়ে গৌতমবাবুর মনে লালসা তৈরি হয়েছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি আমাকে টাকা তছরুপের অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেন। যেদিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছিলেন, তার পরের দিনই আমি তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তখন আমার স্ত্রীকে সরাসরি তাঁর সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। আমার স্ত্রী সেই প্রস্তাব অস্বীকার করেন। এরপরই তিনি আমাকে দিয়ে টাকা পরিশোধের কথা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে লিখিয়ে নেন। আমি তা করতে বাধ্য হই। পরে আমি আইনি পরামর্শ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। যদিও গৌতমবাবু বলেন, আমি কেমন চুঁচুড়ার মানুষ তা জানেন। যিনি বাড়ির গৃহবধূকে সামনে রেখে অশ্লীল ও মিথ্যা অভিযোগ করতে পারেন, তাঁকে মানুষ চিনে নেবেন। ওই ব্যক্তি টাকা পরিশোধের মুচলেকা দিয়েছিলেন। তার মেয়াদ ৩০ মার্চ শেষ হবে। টাকা যাতে না দিতে হয়, তাই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ভোট মরশুমে আমাকে কলঙ্কিত করতেই রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে। এনিয়ে তৃণমূলের জেলা চেয়ারপার্সন অসীমা পাত্র বলেন, অভিযোগের সত্যমিথ্যা তদন্তকারীরা বলতে পারবেন। তবে বিজেপি নানা রোগে আক্রান্ত, সেটা মানুষ বুঝে গিয়েছে। একজন রাজনৈতিক মানুষের বিরুদ্ধে মহিলাঘটিত অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই উদ্বেগের ঘটনা তো বটেই।
গত ১২ মার্চ প্রথম শিবশংকরের কেলেঙ্কারি নিয়ে গৌতমবাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেন। তার প্রায় ১৪দিন পর শিবশংকর সোশ্যাল মিডিয়ায় পালটা প্রচারে নামেন। এই কাদা ছোড়াছুড়িকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।