Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহাত্মা গান্ধী ‘দেশদ্রোহী’, বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যে ক্ষোভ ধূপগুড়িজুড়ে

গান্ধীজিকে নিয়ে বিজেপি প্রার্থীর চরম ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে মুখর ধূপগুড়ি। ‘জাতির জনক’ মহাত্মা গান্ধীকে কেন ‘দেশদ্রোহী’ বললেন পদ্ম প্রার্থী নরেশচন্দ্র রায়, তার জবাব চান ধূপগুড়ির মানুষ। তৃণমূলের দাবি, ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীকে নাকখত দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

মহাত্মা গান্ধী ‘দেশদ্রোহী’, বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যে ক্ষোভ ধূপগুড়িজুড়ে
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: গান্ধীজিকে নিয়ে বিজেপি প্রার্থীর চরম ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে মুখর ধূপগুড়ি। ‘জাতির জনক’ মহাত্মা গান্ধীকে কেন ‘দেশদ্রোহী’ বললেন পদ্ম প্রার্থী নরেশচন্দ্র রায়, তার জবাব চান ধূপগুড়ির মানুষ। তৃণমূলের দাবি, ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীকে নাকখত দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা একযোগে বলেন, মহাত্মা গান্ধীকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপি প্রার্থী, তাতে ওই দলের রাজনৈতিক চরিত্র পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আসলে বিজেপি হল মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীর পূজারী। এদিন তৃণমূল ভবনে গান্ধীজির ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলীয় নেতৃত্ব। 

Advertisement

এদিকে, ঘটনার জেরে ধূপগুড়ি শহরে প্রচারে নামার ‘সাহস’ পাচ্ছেন না বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়। এদিন গাদং পঞ্চায়েত এলাকায় কিছুক্ষণ দায়সারা প্রচার করে ময়দান ছাড়েন তিনি। পদ্ম প্রার্থীকে ঘিরে কর্মীদের তেমন ভিড় ছিল না। গান্ধীজিকে নিয়ে দলের প্রার্থীর বিরূপ মন্তব্যের জেরে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠায় ভোটের ময়দানে কার্যত মুখ লুকোচ্ছেন বিজেপি কর্মীরাও। ধূপগুড়ি শহরে গেরুয়া শিবিরের কার্যালয় দিনভর ছিল শুনশান।
এদিন সকালে অবশ্য সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন সেনাকর্মী তথা ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী নরেশচন্দ্র রায় সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন। বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু কেন তিনি গান্ধীজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বললেন, সেই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি  নরেশ। তবে চাপে পড়ে এদিন তিনি বলেন, গান্ধীজি ‘জাতির জনক’। এতে অবশ্য বিতর্ক থামছে না। কারণ, এদিন ভাইরাল হওয়া আরও একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী বলছেন, ‘ক্ষুদিরাম বসু দেশ সম্পর্কে কী বুঝতেন। তিনি দেশ সম্পর্কে কিছুই বুঝতেন না।’ এক্ষেত্রে অবশ্য ‘আলটপকা’ মন্তব্যের পরই তা শুধরে নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আসলে ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন একজন তেজি, রাষ্ট্রবাদী মানুষ। সেকারণে তিনি ১৭ বছর বয়সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন।’ তবে ওই ভিডিয়োতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ‘শ্যামাপদ মুখার্জি’ বলে সম্বোধন করেন ধূপগুড়ির পদ্ম প্রার্থী। (ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। 
তবে, এ ধরনের মন্তব্যে ধূপগুড়িতে দলের প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠায় বিরক্ত জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ওঁকে কথা কম বলতে কতবার যে বলেছি। বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে ধূপগুড়ির মধ্য বড়াগাড়ি নিউ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বিধান ঘোষ বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কে যিনি অসম্মানজনক মন্তব্য করেন, তাঁর ভোটে লড়াইয়ের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ